২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

দায়মুক্তির রায় সম্পন্ন

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

print
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঘৃণ্যতম অধ্যায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। এ হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নীল নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল। যা দেশের বৃহত্তম দুটো রাজনৈতিক দলের মধ্যে এক নির্দিষ্ট দূরত্ব তৈরি করে দেয়।

এমন হামলা অপ্রত্যাশিত ছিল, রক্তের বন্যায় সে দিন রাজপথে এক ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠেছিল। তবে সে দিনের বিরোধী দল ও বর্তমান সরকারি দল এ হামলার বিচারের ক্ষেত্রে প্রতিহিংসার আশ্রয় নেয়নি, যা বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে খুবই ইতিবাচক একটি দিক। বর্তমান সরকার স্বাভাবিকভাবেই এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে দিয়েছে। এর ফলে যে রায় এসেছে, তা দৃষ্টান্তমূলক রায় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

পত্রিকায় প্রকাশ, আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে বিচারক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আর বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ রায়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাদ রয়েছে। আসামিদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ রায় যুগান্তকারী ও মাইলফলক হয়ে থাকবে বলা হলেও এ রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও নিশিচত করা উচিত। কেননা বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে, তার অবসান কাম্য।

তাছাড়া ক্ষমতার বলয়ে থেকে প্রতিপক্ষকে অব্যাহতভাবে দমন করার যে চর্চা আমাদের দেশে হয়ে থাকে, এ রায় সে ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। কেননা এ রায়ের ফলে ক্ষমতাসীনরা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। সবচেয়ে বড় কথা, পরমতসহিষ্ণুতা চর্চার ক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষের অবস্থানকে স্বাভাবিকভাবে বিবেচনা করার যে উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রয়োজন; তা নিশ্চিত করার জন্য এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এ রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই ও এ রকম জঘন্য ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি।