টিকাদান কেন্দ্রে ভোগান্তি কমাতে পদক্ষেপ নিন

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

টিকাদান কেন্দ্রে ভোগান্তি কমাতে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়
🕐 ১২:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১

টিকাদান কেন্দ্রে ভোগান্তি কমাতে পদক্ষেপ নিন

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ রুখতে বিভিন্ন দেশে টিকার কার্যকর ভূমিকা আমাদের বাংলাদেশের জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহিত করেছে। বয়সসীমা কমিয়ে আনায় অধিকাংশ লোক টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন। টিকার যে সংকট ছিল, তাও অনেকটাই কেটেছে। ফলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে সরকার। সবাইকে টিকার আওতায় আনতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা।

আগে একদিনে একটি টিকাদান কেন্দ্রে যতজনকে টিকা দেওয়া হতো, তার কয়েকগুণ টিকা দিতে হচ্ছে। এতে দেশ কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে পারলে অনেকটাই নিরাপদ থাকবে জনগণÑ এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে কেন্দ্রগুলোতে টিকাগ্রহণের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে অবস্থান খুবই জরুরি। দরকার আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ। যেমন, টিকাদান কেন্দ্রের লোকবল ও স্থান পরিমাপ করে নিবন্ধনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে টিকাগ্রহণের তারিখ জানানোর পাশপাশি একই ম্যাসেজে আনুমানিক সময় জানিয়ে দেওয়া, বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনে হোম সার্ভিস বা ভ্রাম্যমাণ টিকাকেন্দ্র চালু করা দরকার। এতে টিকা নিতে গিয়ে জনভোগান্তি লাঘব হবে।

এখন প্রতিদিনই করোনাভাইরাস শনাক্তের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরণের দৌরাত্ম্য। এরই মধ্যে খুলনার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সিরিয়াল ভঙ্গ, স্থান সংকটের কারণে মানুষের সমাগম ও টিকার জন্য নিবন্ধনের পর এসএমএস জটিলতা নিয়ে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তি ও টিকাদান কেন্দ্রে আসা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি টিকাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে তড়িৎগতিতে ফলপ্রসূ ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নতুবা হিতে বিপরীত হয়ে উঠতে পারে টিকাদান। বেড়ে যেতে পারে সংক্রমণও।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। স্থান সংকটের কারণে একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হচ্ছে। সিরিয়াল বজায় রাখা হয় না। অদৃশ্য ক্ষমতাবলে পরের সিরিয়ালের ব্যক্তি আগেই টিকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এমন বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে টিকাদান কেন্দ্র। কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও সমস্যার সমাধান মিলছে না। আবার টিকাগ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে গেলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য কেন্দ্রে। এতে আরও বাড়ছে ভোগান্তি। যদিও টিকাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা টিকাগ্রহীতাদের ওপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন বিশৃঙ্খলতার দায়। তবে যাই হোক না কেন, টিকাদানের জন্য নতুন কিছু ভাবা প্রয়োজন। বয়সসীমা আরও কমিয়ে আনলে টিকার জন্য নিবন্ধন বাড়বে। পরিস্থিতি আরও জটিলতর হবে। অন্যদিকে টিকাগ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলা সম্ভব। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রায়শ্চিত্য করতে হবে আমাদের।

 
Electronic Paper