শিল্প শ্রমিকরা যেন দ্বিমুখী টানাপড়েনের শিকার না হয়

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

শিল্প শ্রমিকরা যেন দ্বিমুখী টানাপড়েনের শিকার না হয়

সম্পাদকীয়
🕐 ১:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২১

শিল্প শ্রমিকরা যেন দ্বিমুখী টানাপড়েনের শিকার না হয়

চলছে কঠোর লকডাউন, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের অধিকাংশ মালিক তাদের শ্রমিকদের জানিয়ে দিয়েছেন ২৮ জুলাই বা ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলবে। বাকিদের যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। সময়মতো কারখানা খুলবে। সরকার ও মালিকের এই দুই ধরনের ঘোষণায় সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সরকার যদি গাড়ি বন্ধ রাখে, এর মধ্যে কারখানা মালিকরা কাজে যোগদানের আদেশ দেনÑ তাহলে কীভাবে কী করবেন শ্রমিকরা! এই দ্বিমুখী আচরণের শিকার প্রায় অর্ধকোটি শ্রমিক। বাড়ি-গাড়ি যেন তাদের একটু স্বস্তি দেয়Ñ তা নিশ্চিত না করেই এমন আচরণ কেন! উদ্যোক্তারা যে শ্রমিকবান্ধব নন, আইনবান্ধবও নন, শুধু অর্থ-বান্ধবÑ নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে আবার।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য লকডাউনের সময় শিল্প-কারখানা বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য কারখানা খোলা থাকে। লকডাউন ঘোষণার পর ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে আবেদন করলেই শিল্প কারখানাকে লকডাউনের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের লকডাউনে হলো ভিন্নটা। উদ্যোক্তারা মনে করেছিলেন এবারও আবেদন করলে তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। এমনটা ধরেই ঈদের আগের দিন পর্যন্ত উদ্যোক্তা সমিতিগুলো উদ্যোক্তাদের আশ^স্ত করেছিল সরকার কারখানা খোলার রাখার অনুমতি দেবে। ১৭ জুলাই বিকেএমইএ এর সিনিয়র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খোলা কাগজকে জোর দিয়ে বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে ক্যাবিনেট সচিব রপ্তানিমুখী শিল্প খোলার রাখার ব্যাপারে অনুমতি দিয়ে ঘোষণা দিতে পারেন।

শেষপর্যন্ত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে খবর আসে কঠোর লকডাউনে কোনো শিল্প কারখানা চলবে না। খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কারখানা বা খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসা সেবা ছাড়া সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে কারখানা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে কোনো কারখানা ২৭ জুলাই, কোনো কারখানা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে। কিছু কিছু কারখানা চালুর ব্যাপারে কোনো তারিখই ঘোষণা করেনি। তারা শ্রমিকদের ফোনে যোগাযোগ রাখতে বলে। অন্যদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আগের ঘোষণা পুনরাবৃত্তি করেন। কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে দুই ধরনের বক্তব্য আসার কারণে শ্রমিকদের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যারা গ্রামে চলে গেছে তারা যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে আটকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, গার্মেন্ট মালিকদের কথা না মানার মনোভাব থেকে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার মালিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এটা একটি সংকট। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য যদি মালিকদের কার্যকর করাতে না পারে তবে শ্রমিকরা বিপদে পড়বে। সরকার ঘোষণা দিয়ে লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকবে, একটিই কথা কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। এটা মালিককে জানাতে হবে। সরকার ও উদ্যোক্তাদের টানাপড়েনের শিকার যেন শিল্প শ্রমিকরা না হন। সরকারের অবস্থান নিশ্চিত রাখা হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

 
Electronic Paper