টিকার বয়সসীমা কমানো প্রশংসনীয়, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কমাতে হবে

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

টিকার বয়সসীমা কমানো প্রশংসনীয়, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কমাতে হবে

সম্পাদকীয়
🕐 ১:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১

টিকার বয়সসীমা কমানো প্রশংসনীয়, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কমাতে হবে

করোনাভাইরাস মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে ফিরে এসেছে আবার। সরকার ও জনসাধারণ করোনা মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বন করছে। অনেকেই চেষ্টা করছেন নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার। গতকাল খোলা কাগজ অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বয়সসীমা কমানোর ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। গতকাল ঈদের তৃতীয় দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরকারি মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও মহাখালী গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে (শুক্রবার) এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করব। রাজধানীতে আরও ২-৩ জায়গায় ফিল্ড হাসপাতাল করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। জেলা পর্যায়েও প্রয়োজনে ফিল্ড হাসপাতাল করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। প্রান্তিক পর্যায়ে টিকাদান সহজ করতে শুধু এনআইডি দেখিয়ে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা আলোচনায় রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকা প্রয়োগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে। গ্রামের মানুষদের অন্যান্য টিকা যেভাবে দেওয়া হয়, সেভাবেই করোনা টিকা দেওয়া যায় কি না এ বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে। যদি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়, তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং টিকা কার্ড দেখেই টিকা নিতে সম্ভব হবে, নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।

খুরশীদ আলম বলেন, হাসপাতালে ভর্তি অনেক রোগী টিকা নিতে চাইছেন না। এমনকি অনেক নার্স ও স্বাস্থ্যসেবী এখনো টিকা নেননি। এটা খুবই দুঃখজনক। যারা টিকা নিয়েছেন তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কম। গত ১৯ জুলাই করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার বয়স ৩০ বছর নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে গত ৫ জুলাই করোনার টিকার বয়স ৩৫ বছর করা হয়। দেশে টিকা নিবন্ধনের শুরুর দিকে ৫৫ বছর বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে নিবন্ধন কম হওয়ায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনতে বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে সময় ৫৫ থেকে বয়স কমিয়ে ৪৪ বছর করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় কমিয়ে ৪০ বছর করা হয়। তৃতীয় দফায় টিকা গ্রহীতাদের বয়স কমিয়ে ৩৫ বছর করা হয়। চতুর্থ দফায় তা আরও কমিয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে। টিকাদানে বয়স কমানোর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বয়স কমানোর পাশাপাশি সহজে টিকা গ্রহণের সুযোগও করে দিতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়ছেন। সার্ভার কিংবা অন্য কোনো জটিলতার কারণে কারও কারও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে না। অনলাইন প্রথার বাইরে এসে যদি টিকা দেওয়া যায়, সব শ্রেণির মানুষকে আওতায় আনা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে আরও ভাববেন বলেই প্রত্যাশা।

 
Electronic Paper