করোনায় আলো ছড়াক মানবতার দোকান

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

করোনায় আলো ছড়াক মানবতার দোকান

সম্পাদকীয়
🕐 ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২১

করোনায় আলো ছড়াক মানবতার দোকান

দুর্যোগ মানুষকে যেমন বিচ্ছিন্ন করে, তেমনি কাছেও আনে। মানবতার জায়গায় রচিত ও সূচিত হয় নানাবিধ সংকটকালে। বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাস কেন্দ্র করে মানবতার জয়গান লক্ষ করা যাচ্ছে। মানুষ দাঁড়াচ্ছে অপরের পাশে, সহযোগী হয়ে। খুলনা ১৩০ শয্যার ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের সামনে ওষুধ, খাবার ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের পসরা নিয়ে বসেছে মানবতার দোকান। এখানে করোনা রোগীদের জন্য ফ্রি মেডিসিন কর্নার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্যোগে এই মানবতার দোকান খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খোলা কাগজ অনলাইন। খুলনা অক্সিজেন ব্যাংকের সদস্যরা জানান, খুলনা করোনা হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। অনেক রোগী হাসপাতালের সামনে এসে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। অনেকের স্বজন না খেয়ে থাকেন।

আবার অনেক ভর্তি রোগী বেশি দামি ওষুধ কিনতে হিমশিম খায়। যে কারণে খুলনা অক্সিজেন ব্যাংক মানবতার দোকান খুলেছে। রোগীদের সুবিধার্থে হাসপাতালের সামনেই বাঁশ-খুঁটি দিয়ে সামিয়ানা টাঙিয়ে দোকান প্রস্তুত করা হয়েছে। দোকানের সামনে অক্সিজেন সিলিন্ডার, টেবিলে ওষুধ নিয়ে বসে রয়েছে সংগঠনের কর্মীরা। যেখানে এসে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। মানবতার এই দোকানে ২২ প্রকারের ওষুধ ফ্রিতে প্রদান করা হচ্ছে। খুলনা অক্সিজেন ব্যাংকের কোষাধ্যক্ষ আসাদ শেখ বলেন, গতবছর করোনার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবতার ফেরিওয়ালারা করোনা আক্রান্তদের সেবা প্রদান করে আসছে। লকডাউনে কর্মহীন, অসহায়, পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ নানা মানবিক কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীদের ২ হাজারের বেশি সিলিন্ডার অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে।

কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় করোনা হাসপাতালের সামনে মানবতার দোকান খোলা হয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে পারবেন। এই দোকানে রয়েছে ফ্রি মেডিসিন সেবা, ফ্রি জরুরি অক্সিজেন সাপোর্ট ও গ্রাম থেকে আসা রোগীর পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ। খুলনা অক্সিজেন ব্যাংকের উপদেষ্টা শাহ জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, গ্রাম থেকে আসা অসহায় রোগীর স্বজনরা করোনা হাসপাতালের সামনে এসে ভর্তি, অক্সিজেনসহ নানা বিষয়ে ছোটাছুটি করেন। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এছাড়া রোগীদের স্বজনরা খাবার না পেয়ে অনেক সময় ক্ষুধার্ত থাকছে। যে কারণে খুলনা অক্সিজেন ব্যাংক রোগীদের স্বজনদের মাঝে প্রতিদিন দুপুরে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। একইসঙ্গে দোকানে ওষুধ এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের পসরা। আমরা টাকার বিনিময়ে ওষুধ দিই না, হাসির বিনিময়ে ওষুধ দিচ্ছি।

এই উদ্যোগ রীতিমতো খুলনায় সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষের কাছ থেকে সাধুবাদ পেয়েছে। অনেকে বলছেন, এমন মানব সেবা দেশে আগে কখনো দেখিনি। এটি ভালো উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। উদ্যোগদাতারা সমাজের নক্ষত্র। হাসির বিনিময়ে ওষুধ সরবরাহ, কী অদ্ভুত ব্যাপার! এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই আলো ছড়িয়ে যাক চারদিকে। জয় হোক মানবতার, মানুষের!

 
Electronic Paper