যৌন হয়রানি রোধে পদক্ষেপ নিন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

যৌন হয়রানি রোধে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয় ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০২, ২০২১

print
যৌন হয়রানি রোধে পদক্ষেপ নিন

যৌন হয়রানি যেন নিত্যদিনের সংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে! প্রায়ই এধরনের ঘটনা ঘটছে। গত শনিবার হবিগঞ্জে শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা পেতে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে। রোববারে আটক করা হয় বাসচালক ও হেলপারকে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে দেশে শতকরা ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ মেয়ে শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ, হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ৩০ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, করোনাকালে তারা কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১২ শতাংশ শিশু এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিপীড়িত শিশুদের ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হচ্ছে কন্যা শিশু এবং ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছেলে শিশু।

গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি জরিপের ফল তুলে ধরে এ তথ্য প্রকাশ করে। ২০২০ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইনে যৌন শোষণের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিবিষয়ক এ গবেষণা পরিচালনা করে আসক। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির শিশু অধিকার ইউনিটের সমন্বয়ক অম্বিকা রায় বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ পাস হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই আইনে অনলাইনে শিশুদের দ্বারা শিশু নির্যাতন বিষয়টিকে চিহ্নিত করে আলাদা কোনো বিধান রাখা হয়নি। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। যদিও বেশি বয়সী শিশুরা কম বয়সী শিশুদের চেয়ে অধিক মাত্রায় অনলাইনে নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে সার্বিকভাবে সব শিশুই ক্ষতিকর কনটেন্ট, যৌন হয়রানি এবং নিপীড়নের আশঙ্কায় রয়েছে।

জরিপের ফল তুলে ধরে বলা হয়, করোনাকালে শিশুরা যেসব ধরনের নির্যাতিত হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শিশুদের ব্যক্তিগত ও অসংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করা, অনলাইনে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া, পর্নোগ্রাফি এবং কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনতা বিষয়ক ছবি বা তথ্য দেখতে পাওয়া ইত্যাদি। আসক জানায়, করোনাকালে অনলাইনে নিপীড়নের শিকার শিশুদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ জানিয়েছে তারা অপরিচিত ব্যক্তি কর্তৃক অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছে। অনলাইনে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে মাত্র ৪১ শতাংশ শিশু তাদের অভিভাবক ও পরিবার পরিজনকে অবহিত করেছে নির্যাতিত শিশুদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ নিপীড়িত শিশু বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আসক অনলাইনে শিশু নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করে। এর মধ্যে-শিশুদের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাইবার নিরাপত্তা; অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের ধরনসমূহ চিহ্নিত করে সে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ; সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে অভিভাবকসহ সব পর্যায়ের অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি; অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপস ব্যবহারে উৎসাহী করতে উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি। সব ধরনের যৌন হয়রানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টরা আরও তৎপর হবেন বলেই প্রত্যাশা।