সর্ষের ভূত তাড়াবে কে!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

সর্ষের ভূত তাড়াবে কে!

সম্পাদকীয় ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

print
সর্ষের ভূত তাড়াবে কে!

গ্রামাঞ্চলে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানোর ‘রেওয়াজ’ আছে। কিন্তু খোদ সর্ষেতেই যদি ভূতের আছর থাকে সে সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে! দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যখন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তখনই এধরনের প্রবাদবাক্য প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কথা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মুন্সীগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এস এম সাকিব হোসেন ওরফে সাকিব শিকদার। কিন্তু উপ-পরিচালক পদে কেউ নিযুক্ত না থাকায় পুরো জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ছিল তার হাতেই। এই দায়িত্বের আড়ালে একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একের পর এক স্বর্ণের চালান ডাকাতি করে আসছিলেন সাকিব।

সাকিব বাহিনীর মূল টার্গেট ছিল দেশের অন্যতম স্বর্ণের বাজার পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের স্বর্ণকারবারিরা। প্রথম অবস্থায় এই ডাকাতির কাজে ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করতেন সাকিব। পরে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মুন্সীগঞ্জ জেলা অফিসের জন্য সরকারি ডাবল পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ পাওয়ার পর ওই পিকআপ দিয়েই স্বর্ণ লুটপাট করতেন এই মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। মাঝে-মধ্যে ডাকাতির কাজে নিজের সংস্থার পোশাকটিও ব্যবহার করতেন তিনি। জানা গেছে, সাকিবের এই সিন্ডিকেট এখন পর্যন্ত ৩২০ ভরি স্বর্ণ লুটপাট করেছে। তার বিশ্বস্ত সহযোগীরা হলেন- এএসআই মো. এমদাদুল, সিপাহী আমিনুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন এবং গাড়িচালক ইব্রাহিম শিকদার।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সিদ্দিকুর রহমান নামের মুন্সিগঞ্জের এক স্বর্ণ কারবারিকে টার্গেট করে সাকিব বাহিনী। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁতীবাজার থেকে ৯০ ভরি স্বর্ণ কেনেন সিদ্দিকুর। স্বর্ণগুলো ছিল বার আকারে। সিদ্দিকুরের কেনা ৯টি বারের প্রতিটির ওজন ছিল ১০ ভরি করে। তাঁতীবাজার থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর জিন্দাবাহার পার্ক এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে সিদ্দিকুরের গতিরোধ করে এই চক্রটি। একপর্যায়ে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মুন্সীগঞ্জ জেলা অফিসের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ডাবল পিকআপ ভ্যানটিতে তোলা হয়। তার কাছে থাকা সব স্বর্ণ লুট করে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের রাস্তায় তাকে ফেলে রেখে যায় চক্রটি।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চক্রটির সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জীবন পাল, রতন কুমার ও হারুন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। গত সোমবার জীবন ও রতন আদালতে জবানবন্দি দেন। এর পরই সাকিব শিকদারকে ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে সাকিব, কনস্টেবল আমিনুল ও সোর্স হারুনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

সাকিব ও তার সহকর্মীদের এমন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ব্রিবত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ওই পাঁচজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে। শুধু এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাই নন, রক্ষক হয়ে যারা গণমানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন, বিনষ্ট করছেন সামাজিক শৃঙ্খলা- এদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।