স্বর্ণ চোরাচালান, কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

স্বর্ণ চোরাচালান, কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

সম্পাদকীয় ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

print
স্বর্ণ চোরাচালান, কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

স্বর্ণ চোরাচালানকারীরা প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে আসছে। ধরা পড়ছে বছরব্যাপী। তবুও থামছে না চোরাচালান। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়- সিট, টয়লেট, লাগেজ এমনকি যাত্রীর জুতার সুকতলায়ও মিলছে স্বর্ণের বার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, মাস্কাটের ওমান, সৌদি আরবের জেদ্দা, কাতার থেকে আসছে স্বর্ণের চোরাচালান। কী পরিমাণ স্বর্ণ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তা হিসাবের বাইরে। এমন বাস্তবতা অবশ্যই উদ্বেগজনক। দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের বহু সিন্ডিকেটও গড়ে উঠেছে, যাদের আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। স্বর্ণ চোরাচালান দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। এসব স্বর্ণ বৈধপথে আমদানি কিংবা রপ্তানি হলে সরকারের রাজস্ব খাত আরও মজবুত হতো।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত বছর যেমন চোরাচালানের প্রচুর স্বর্ণ আটক হয়েছে, তেমনি এসব ঘটনায় থানায় হওয়া মামলাগুলোর প্রায় সব আসামিই জামিন পেয়েছেন। এ ছাড়া এসব মামলার তদন্তেও তেমন অগ্রগতি নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী এ তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই দেশে অবৈধভাবে স্বর্ণ প্রবেশ বলা যায় নিয়মিত ঘটনা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিমানবন্দরে অবৈধভাবে আসা স্বর্ণ আটক হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে কাতার থেকে আসা ফ্লাইট নম্বর কিউআর-৬৩৮ এর যাত্রী নজরুলের শরীর তল্লাশি করে এ স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। অভিযানে জব্দ করা ৩০টি স্বর্ণবারের প্রতিটি ১১৬ গ্রাম ওজনের। যার মোট ওজন ৩ হাজার ৪৮০ গ্রাম। জব্দ বার ও স্বর্ণালঙ্কার পরবর্তীকালে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কাস্টম হাউস, ঢাকায় পাঠানো হয় এবং আটক যাত্রীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে, স্বর্ণ আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। ফলে দেশটিতে স্বর্ণ আমদানি ৯৫ শতাংশে কমে আসে। তাছাড়া স্বর্ণ আমদানিতে শুল্কহার ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এতে স্বর্ণ আমদানিতে আরও ধস নামে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারতে স্বর্ণ পাচার অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। তাই দুই বাংলার চোরাকারবারিদের কাছে স্বর্ণ পাচার এখন অধিকতর লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাই থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে আসছে। আবার বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতে ঢুকছে। সামগ্রিক বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে হওয়া মামলার আসামিরা কীভাবে জামিনে মুক্তি পান, তা বোধগম্য নয়। পুলিশের মতো কাস্টমসকে যদি এসব মামলার তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো সমস্যাটা দূর হতো। স্বর্ণ চোরাচালান মামলার অধিকাংশ আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

স্বর্ণ চোরাচালানে নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র। আমরা প্রত্যাশা করব, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধ করে কেউ যেন বহাল তবিয়তে থাকতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।