সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ হোক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ হোক

সম্পাদকীয় ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ হোক

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর নতুন নয়। সারা দেশেই এক শ্রেণির ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের হাত করে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এ ধরনের কাজ করে আসছেন। কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল তুলে নেওয়ার কয়েকদিন বা কয়েকমাস পর দেখা যায় সংস্কার করা সেই সড়ক আবারও বেহাল অবস্থা। আবার কখনো কখনো বিল তোলার আগেই প্রকাশ পায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর। সম্প্রতি মানিকগঞ্জের এমন এক খবর প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক খোলা কাগজে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম বাজার থেকে আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন হাজার ১০০ মিটার সড়ক সংস্কারে ঝামা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার কাজে ব্যবহৃত ঝামা ও নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে পুনরায় কাজ করতে তিন দিন সময় বেধে দেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারে তদারকির দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন এ কাজের প্রশংসা করায় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ করায় তাকে কারন দর্শাও নোটিস দেওয়া হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজের নির্দেশ দেওয়া ও উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেনকে কারন দর্শাও নোটিস দেওয়ায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার। তবে তার এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পা এন্টারপ্রাইজ। পুনরায় কাজ না করে তারা নিম্নমানের সামগ্রীর ওপর ইটের সুরকি দিয়ে তা ঢেকে দেয়। দ্রুত কাজ শেষ করতে অধিকাংশ অংশ কার্পেটিং করা হয় আর বেশ কিছু অংশ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিবেদক সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলে তার কাছে সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন কাজের খুব প্রশংসা করেন। এমনকি জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীও কাজের প্রশংসা করেছেন বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ডেকে প্রতিবেদককে হাত করার পরামর্শ দেন। প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য ঠিকাদার প্রতিবেদকের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন।

সারা দেশের বিভিন্ন সড়কে অসাধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন কাজের জন্য খোয়া-ঝামা কিংবা অন্য সামগ্রী উঠে গিয়ে অল্পদিনেই সড়ক হয়ে যায় চলাচলের অনুপযোগী। পিচ ঢালা এসব সড়ক বর্ষাকালে হয়ে যায় ধান চাষের উপযোগী। ফলে যানবাহন চলাচলে আসে ধীরগতি। কখনো কখনো সড়কে ভারী যানবাহনের চাকা আটকে যায়; পিছলে যায় দুই চাকার যান; দুর্ঘটনার শিকার হন অনেকে। একই সড়ক অল্প দিনে বারবার সংস্কারে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অর্থের অপচয় হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশে। তাই এ ব্যাপারে সরকারের আরও কঠোর হওয়া দরকার। দরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। সেক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের জড়িত অসাধু কর্মকর্তার এই অপরাধের ধরণ হিসেবে বেতন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা আরও কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে। শাস্তির দুই-একটা নজির স্থাপন করতে পারলে ভয়ে অন্তত সরকারি কর্মকর্তাদের এই কাজে জড়িয়ে পড়ার হার কমতে পারে।