স্বস্তি ফিরুক হাতিরঝিলে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

স্বস্তি ফিরুক হাতিরঝিলে

সম্পাদকীয় ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

print
স্বস্তি ফিরুক হাতিরঝিলে

অবসর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাতিরঝিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই শান্তির জায়গাই হয়ে উঠছে ‘ক্রাইম জোন’। এ বিষয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খোলা কাগজ। তাতে বলা হয়েছে- অবসর সময় কাটাতে বর্তমান সময়ে রাজধানীর সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন জায়গা হচ্ছে হাতিরঝিল। পরিবেশ ও নান্দনিকতায় খুব সহজেই যা নগরবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ম আর অপরাধ বেড়েই চলছে। পাঁচ থানার মিলনস্থল হাতিরঝিলে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধচক্র। মাদক বাণিজ্য, দেহ বাণিজ্যসহ নানামুখী অপরাধ এখন ওপেন সিক্রেট। ফলে এখানে ঘুরতে আসা লোকজন নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হাতিরঝিলে গত বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার এবং পৃথক অভিযানে নতুন আইস মাদক, হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, হত্যার পর লাশ সরাতে হাতিরঝিল এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করছে অপরাধীরা। নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বৃদ্ধি করা গেলে কমে আসবে অপরাধ মনে করছেন তারা। গত শুক্রবার অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের বিষয়ে হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক অপারেশন মোহাম্মদ গোলাম আযম বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বেগুনবাড়ি সেতুর পূর্ব পাশে জলাশয় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতিরঝিলে এমন লাশ পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও কয়েকবার হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হাতিরঝিল এলাকা নীরব হয়ে যায়। এ সুযোগেই অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে পালিয়ে যায়। যদিও রাত কিংবা দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা টহল থাকলেও সুযোগ বুঝে এসব অপরাধ করছে অপরাধীরা। এলাকাবাসীর দাবি, হাতিরঝিলজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বৃদ্ধি করা গেলে কমে আসবে অপরাধ। জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে হাতিরঝিলের সঙ্গে সংযুক্ত অন্তত ৩৮টি চোরাগোপ্তা গলি আর বাসাবাড়ির চোরাগেট ঘিরে বেড়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী ও নেশাখোরদের আনাগোনা। তৎপরতা বাড়ে ছিনতাইচক্রের। ঝিলের সংযোগ সেতুর আশপাশেই মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের তৎপরতা বেশি।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল প্রকল্প পরিচালক জামাল আখতার ভূঁইয়া বলেন, হাতিরঝিলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করছে। ছিনতাই, দুর্ঘটনাসহ নানা ঘটনার অভিযোগ আসার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর আড্ডার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করছেন। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। কেউ যেন অযথা আড্ডা দিতে না পারে, কাঁটাতার বসানো হচ্ছে। হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম আযম জানান, অপরাধ দমনের লক্ষ্যে অনেক বড় এলাকাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায় বিভক্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়। ঠিক তেমনিভাবে হাতিরঝিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। যে হাতিরঝিল রাজধানীবাসীর জন্য দু’দন্ড অবসর কাটানোর সুযোগ দিয়েছিল, এত দ্রুত সেটার পরিবেশের অবনতি মানা যায় না। রাজধানীর ফুসফুসখ্যাত এ বিনোদন স্থলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নেবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।