কৃষকবান্ধব উদ্যোগ প্রশংসনীয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

কৃষকবান্ধব উদ্যোগ প্রশংসনীয়

সম্পাদকীয় ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

print
কৃষকবান্ধব উদ্যোগ প্রশংসনীয়

কৃষকের সমস্যা অতীতে যেমন ছিল, তেমনি বর্তমানেও কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে চলমান করোনাকালে কৃষকের সমস্যা বেড়েছে আরও। এর মধ্যেই এলো একটি সুসংবাদ। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষিতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলার নিজস্ব তহবিল থেকে হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্যোগ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন রকম প্রণোদনা স্কিম কার্যকর করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের বরাদ্দের বাইরে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সুদ সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ভয়ঙ্কর করোনা মহামারী মোকাবিলায় সরকার খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি ও কৃষকের জন্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এ টাকার বেশির ভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে যাবে। এ তহবিল বিতরণে চার থেকে পাঁচ শতাংশ সুদ সহায়তা দেবে সরকার। এর কিছু অংশ যাবে সরকারের অর্থ। এই প্রণোদনার ভেতরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদ হারে কৃষিঋণ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণের সুদ সহায়তা হিসেবে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে সুদ সহায়তা বাবদ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে গুনতে হচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের নিজেদের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষিঋণ হিসেবে বিতরণ করে থাকে। কৃষক পর্যায়ে যার সুদ হার ৯ শতাংশ। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এ ধরনের কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা আছে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে রয়েছে শস্য ঋণ, কৃষি ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে ঋণ, সেচযন্ত্র ক্রয়বাবদ ঋণ, গবাদিপশু খামার ও পোল্ট্রি খামার, মৎস্য চাষ, দারিদ্র্য হ্রাসে গৃহীত কার্যক্রম ছাড়াও পল্লী অঞ্চলে গৃহীত বিভিন্ন রকম কার্যক্রমে এ ঋণ বিতরণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই শস্য খাতে বিতরণ করা ঋণের পুরোটা করোনাকালীন প্রণোদনা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং কৃষক পর্যায়ে এই ঋণের সুদ হার দাঁড়াবে ৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনৈক কর্মকর্তা জানান, কৃষক পর্যায়ে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে নিয়মিত কৃষি ঋণের প্রায় অর্ধেক। সে হিসেবে এ ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রণোদনা হিসেবে ছয় কোটি টাকা সুদ সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে যাতে খাদ্য উৎপাদন ব্যবহৃত না হয় এবং পল্লী অঞ্চলে অর্থের সরবরাহে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য সরকারি তহবিলের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষকবান্ধব এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এভাবেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকের পাশে থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।