অর্থ পাচার রোধে পদক্ষেপ কাম্য

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

অর্থ পাচার রোধে পদক্ষেপ কাম্য

সম্পাদকীয় ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০২০

print
অর্থ পাচার রোধে পদক্ষেপ কাম্য

অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতিকে ন্যুব্জ করে দেয় সহজেই। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বৃত্ত শ্রেণি নানা পন্থা অবলম্বন করে অর্থ পাচার করে যাচ্ছে। পাচার রোধে নানামুখী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দমানো যায়নি অসৎ পন্থা অবলম্বনকারীদের। এ বিষয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে খোলা কাগজে। তাতে বলা হয়Ñ আমদানি-রপ্তানিতে অর্থ পাচার রোধে ব্যাংকের অটোমেশন ও পর্যবেক্ষণ কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছে ‘মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি।’ এ নির্দেশনা দেওয়া হয় কমিটির ১৮তম বৈঠকে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈদেশিক শাখায় দক্ষ লোক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য ঋণপত্র খুলে থাকে, টাকা পাচারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সে সব ব্যাংকের বৈদেশিক শাখায় অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। যাতে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সময় অসাধু লোক পণ্যের প্রকৃত দামের চেয়ে দাম বেশি বা কম দেখিয়ে অর্থ পাচার করতে না পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমদানি-রপ্তানির জন্য এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির যাবতীয় রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতি চার ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে এ রিপোর্ট দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই শাখা পণ্য আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পণ্য এবং পণ্য রপ্তানির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সময়মতো রপ্তানি আয় বা আমদানি পণ্য দেশে না এলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাব দিতে বলা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানিলব্ধ আয় দেশে না আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক ও রপ্তানিকারকের কাছে কৈফিয়ত তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিনিয়র অর্থসচিব আসাদুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্য আমদানি-রপ্তানি পর্যবেক্ষণ শাখাকে পর্যবেক্ষণ জোরদার ও পণ্যমূল্যের তালিকা সংবলিত ডাটাবেজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আন্ডার ইনভয়েজ বা ওভার ইনভয়েজ কেউ না করতে পারেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এ ধরনের অর্থ পাচার রোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সম্প্রতি সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক রিপোর্ট ও গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি রিপোর্ট-এ বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের বিষয়টি এ বৈঠকে উঠে আসে। দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে খবর এলেও দেশের অভ্যন্তরে তথ্যের উৎসে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অর্থ পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।