অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের প্রাপ্য নিশ্চিত করুন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের প্রাপ্য নিশ্চিত করুন

সম্পাদকীয় ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

print
অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের প্রাপ্য নিশ্চিত করুন

বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমিকরা। মৃত্যুও হয় কারও কারও। তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ মেলে না বললেই চলে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বরে আগুনে পুড়ে মারা যান ১১২ শ্রমিক। আহত হয়ে বেঁচে বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা আজও সেই স্মৃতির আগুনে পুড়ছেন। মুখরোচক সান্ত্বনার বাণী মিললেও মেলেনে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ। তাজরীনের মালিকসহ বিচারের মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তারা আছেন জামিনে। আদালতে দিনের পর দিন সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ঝুলে গেছে মামলা। এদিকে স্বজন হারানো বেদনায় কাতর নিহত শ্রমিক পরিবার কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। ভুক্তভোগী ২৫ পরিবার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন দাবি নিয়ে। এসব বিষয় উঠে আসে গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের অষ্টম বার্ষিকী ছিল গত মঙ্গলবার। সেদিনের অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পেরিয়ে গেলেও কিছু আর্থিক অনুদান ছাড়া কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি আহত ও নিহতদের পরিবার। বাংলাদেশের শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণের ধারাটি পরিবর্তন সাপেক্ষে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা। করোনার মৃত্যুভয় এখন তাদের কাছে যেন কিছুই নয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন দাবি নিয়ে। তারপরও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের, বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাদের মতে, ‘অভিযুক্ত মালিকের বিচারের অগ্রগতিও হয়নি। সাক্ষ্য গ্রহণের নামে চলছে টালবাহানা।’

সারা বছর নিহত শ্রমিকের পরিবারের কোনো খোঁজ না নিলেও কাণ্ডের আট বছরপূর্তিতে গত মঙ্গলবার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের কবরে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ওই কারখানার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জুরাইন কবরস্থানে আসেন তারা। নিহতদের কবর কালো ব্যানার ও ফুল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। দিনের প্রথম প্রহরে কারখানার ফটকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিকরাও। এ সময় নিহতদের কবরে পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাজরীন ফ্যাশনসের সুইং অপারেটর ছিলেন জরিনা। ভয়াবহ ওই অগ্নিকা- থেকে প্রাণ বাঁচাতে কারখানার তিন তলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে পঙ্গু হয়ে যান।

শোনা যাচ্ছে তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গত আট বছরে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে সাক্ষী হাজির করতে পারছে না বলে মামলায় অগ্রগতি নেই। কয়েকদিন পর পর নতুন করে শুধু শুনানির দিনই ধার্য হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকদের অনেকে যারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছেন তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ বিষয়ে শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এ এম মিজানুর রহমান বলেন, আইন পরিবর্তনের ইস্যু নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। সেটি মন্ত্রণালয় করবে। আর মনে রাখতে হবে এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের প্রাপ্য দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন বলেই প্রত্যাশা।