মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রশংসনীয় উদ্যোগ

সম্পাদকীয় ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

print
মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ সদস্যদের কাজের বড় একটি ক্ষেত্র মাদক নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে মাদক গ্রহণের। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৬৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধে। এজন্য ৪৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং ১৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি শেষে ওই ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনকেই চাকরিচ্যুত করে আদেশ জারি করা হয়েছে। বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২৫ জনের বিরুদ্ধে। গত রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মাদক বিক্রি, সেবন এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোসহ উদ্ধারকৃত মাদকের তুলনায় কম দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ডিএমপির আরও ২৯ সদস্য। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ছয়জন পুলিশ সদস্য। বর্তমান ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার ঘোষণা দেন।

দেশব্যাপী শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নিজেদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করে পুলিশ সদর দফতর। এর অংশ হিসেবে দুমাস আগে ডিএমপি সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে নবসৃষ্ট ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয় উদ্বোধন শেষে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ডোপ টেস্টে যাদের পজিটিভ এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে বাকিদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা যাবে, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। এ উদ্যোগের ফলে অনেকে ভালো হয়েছে এবং এ রাস্তা থেকে ফিরে এসেছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বা মাদক ব্যবসায়ীকে সহযোগিতা করছে, সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না।? সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ডিএমপি কমিশনারের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা (ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন-এনআইডি) পুলিশের মাদক সেবন ও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করছে। ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরতদের অনেকে মাদকাসক্ত হওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকে বলেও তদন্ত উঠে এসেছে। তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে। ডিএমপির সদস্যদের মধ্যে মাদকাসক্ত হিসেবে সন্দেহভাজনদের তালিকা করে সিআইডির ল্যাবে তাদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

ডিএমপি মিডিয়ার উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলি। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডোপ টেস্টে এখন পর্যন্ত মোট অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৬৮ জন। পুলিশ বিভাগের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এমন ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব হবে সৎ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর পথচলা। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জনজীবনে।