সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হোক

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হোক

সম্পাদকীয় ১২:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০

print
সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হোক

এখনো অরক্ষিত সড়ক! সাধারণ এবং সেলিব্রেটির নিরাপদ সড়ক দাবিতে আন্দোলন, নতুন করে আইন প্রণয়ন কোনো কিছুই যেন সড়ক নৈরাজ্যের কাছে কিছুই নয়। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়কের দাবি দেশের সব মানুষের। সড়কে হতাহতের ঘটনা ঠেকাতে হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। এই আইন বাস্তবায়নে সরকার তৈরি করছে বিধিমালা। সেই বিধিমালার খসড়ায় সড়কে নিহত ব্যক্তির জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। আহত ব্যক্তির জন্য ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতিপূরণের এ পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে সড়কে নিহতদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় নিহত অথবা আহত ব্যক্তির জীবনমানের ওপর নির্ভর করে। ওইসব দেশে যে নাগরিকের জীবনমান যেমন, সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ সেভাবেই নির্ধারণ করা হয়। যেমন- একজন সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তি ও দিনমজুর সড়কে নিহত বা আহত হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এক হতে পারে না। কিন্তু সম্প্রতি সরকার সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের জন্য যে বিধিমালা তৈরি করছে তাতে ব্যক্তির জীবনমান মূল্যায়ন না করে ঢালাওভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ও আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সড়ক সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রকৃতপক্ষে আর্থিক পরিমাণ দিয়ে একজন মানুষের জীবনের ক্ষতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা দেশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশে^র উন্নত দেশের কাতারে চলে এসেছি। সেক্ষেত্রে সড়কে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশে^র উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা উচিত। যেহেতু সড়ক আইনে আর্থিক ট্রাস্ট গঠনের কথা বলা হয়েছে। ফলে বিধিমালায় যাতে নিহত ব্যক্তির জন্য কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা ও আহত ব্যক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ক্ষতির পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া না হয় সেটা ভালো।

আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও নতুন এই সড়ক পরিবহন আইনে রাখা হয়েছে আরও বেশ কিছু বিধান। এর মধ্যে রয়েছে, সড়কে গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হত্যা করলে ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বিধান। সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে বা প্রতিযোগিতা করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদ- অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আদালত অর্থদ-ের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। মোটরযান দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা প্রাণহানি হলে চালকের শাস্তি দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টরা আরও তৎপর হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।