ঢাকার নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

ঢাকার নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

সম্পাদকীয় ১২:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২০

print
ঢাকার নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে সভ্যতা, বিকশিত হয় জীবনধারা। মাছে ভাতে বাঙালি নামক প্রবাদের উৎপত্তিও নদীকে কেন্দ্র করেই। কালের করালগ্রাসে নানাভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে নদী। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজ জীবনে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার চারপাশের নদী দখলমুক্ত, দূষণরোধ ও নাব্য বৃদ্ধির জন্য মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটি। এ মহাপরিকল্পনার (মাস্টার প্ল্যান) বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ভিন্নমত নিষ্পত্তিতে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হবে। গত রোববার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে যে সমস্ত নদীতে অবৈধ দখল আছে ইতোমধ্যে আমাদের নৌ মন্ত্রণালয় দখলমুক্ত করেছে।

উচ্ছেদকৃত স্থানগুলো সংরক্ষণ এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা যেন দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে কোথাও যদি সমন্বয়হীনতা থাকে, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যে কাজগুলো করবে সেগুলো সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। মাস্টার প্ল্যানের চাহিদা মোতাবেক সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ভিন্নমত নিষ্পত্তি করার জন্য কয়েকটি কমিটি করার কথা আলোচনা হয়েছে। আলোচনা করে আমরা কমিটি গঠন করে দেব। আর কোথায় কী প্রকল্প আছে এবং কোথায় কোন প্রকল্প প্রয়োজন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

খাল উদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে যে সমস্ত খাল রয়েছে সেগুলো সংস্কার ও ওয়াকওয়ে তৈরি করে সম্ভাব্য যত সুযোগ আছে তা কাজে লাগানোর জন্য দু’একটা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আর কোথায় কোথায় প্রকল্প নেওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করছি। বুড়িগঙ্গার নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য যমুনা নদীতে যে জায়গায় ড্রেজিং করা দরকার তা নিয়ে নৌ সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন কাজটি দ্রুত করছেন। করলে সেখানে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বুড়িগঙ্গার নাব্য আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্জ্য থেকে উত্তরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ করছি। না হলে কাজের ফল বিলম্বিত হবে। আশা করি দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করা যাবে। আর দক্ষিণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের জন্য এ ধরনের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চট্টগ্রামেও প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে যাতে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

তরল দূষণের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, তরল দূষণ থেকে রক্ষার জন্য ওয়াসার এমডিকে বলেছি, প্লান্ট করার জন্য এগোচ্ছি। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে দরপত্র করার কাজ চলছে। অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বলেন, আমাদের কাজ আরম্ভ হয়ে গেছে। ১০ বছরের মধ্যে শেষ হবে। প্রথম দফার কাজ সন্তোষজনক সময়ের মধ্যে শেষ হবে। আমাদের এক বছর হয়ে গেছে। ঢাকার নদী রক্ষার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সংশ্লিষ্টরা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে গেছে নদী ফিরে পাবে হৃত ঐতিহ্য।