আগুনসন্ত্রাসে দায়ীদের চিহ্নিত করুন

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

আগুনসন্ত্রাসে দায়ীদের চিহ্নিত করুন

সম্পাদকীয় ৪:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

print
আগুনসন্ত্রাসে দায়ীদের চিহ্নিত করুন

যানবাহনে আগুন দিয়ে নাশকতা চলেছে বছর কয়েক আগে। এতে ক্ষতি হয়েছে অনেক জান-মালের। ধীরে ধীরে সেটা বন্ধ হয়ে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল রাজধানীবাসী। আবার যানবাহনে আগুন দিয়ে নাশকতার অপচেষ্টা ভাবিয়ে তুলছে। ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচন চলার মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত নয়টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েকটি জায়গায় যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। একজনকে আটক করেছি। এর সঙ্গে সরাসরি কারা জড়িত, কারা পরোক্ষভাবে এ নাশকতার কাজে মদদ দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাসেল শিকদার বলেন, খবর পেয়ে আমাদের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিভিয়েছেন। কেউ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় এসব বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বেশিরভাগ গাড়ির অধিকাংশ পুড়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের মোবাইল টিম এবং সিনিয়র অফিসাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতাকর্মীরা গতকাল সকালে নয়াপল্টনে মিছিল বের করার কিছু সময় পর বেলা ১২টার দিকে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। বিএনপি অফিসের বিপরীতে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা আয়কর বিভাগের একটি স্টাফ বাস জ্বলতে দেখা যায়। এরপর বেলা ১টার দিকে মতিঝিলে মধুমিতা হলের পেছনে রাখা অগ্রণী ব্যাংকের একটি স্টাফ বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বেলা দেড়টার আগে আগে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে রমনা হোটেলের সামনে ভিক্টর ক্লাসিকের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে দেওয়ান পরিবহনের একটি এবং বেলা ২টার পরপর সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেটের সামনে রজনীগন্ধা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। আড়াইটার দিকে বংশাল থানার নয়াবাজার এলাকায় ডিআইটি সুপার মার্কেটের কাছে দিশারী পরিবহনের একটি বাস এবং পৌনে ৩টার দিকে পল্টন ধানাধীন পার্কলিং এ জৈনপুরী পরিবহনের একটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিকাল ৩টায় মতিঝিলের পূবালী পেট্রোল পাম্পের সামনে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস এবং সাড়ে ৪টার দিকে ভাটার ধানাধীন কোকাকোলা মোড়ে ভিক্টর পরিবহনের আরও একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীবেশে উঠে ওই ব্যক্তি বাসটিতে আগুন দিয়েছেন। উপনির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ‘একটি গোষ্ঠী’ নাশকতা ঘটিয়েছে। আমরা এ ধরনের নাশকতাকারীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। যারাই নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকুক দ্রুত তাদের সনাক্ত করে আওতায় আনা জরুরি। আগুনসন্ত্রাসীরা ফের শক্তভাবে মাথাচাড়া দেওয়ার আগেই নিতে হবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।