বাজারকে দুষ্টচক্রের প্রভাবমুক্ত করতে হবে

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বাজারকে দুষ্টচক্রের প্রভাবমুক্ত করতে হবে

সম্পাদকীয় ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

print
বাজারকে দুষ্টচক্রের প্রভাবমুক্ত করতে হবে

বাজারে এখন প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও সবজির দাম বেড়েই চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে অসাধু ও দুষ্ট চক্র। তারা ইচ্ছেমাফিক দাম রাখছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, আমাদের ভোগ্যপণ্যের বাজার দুষ্টচক্রের কবলে পড়েছে। এই চক্রের সদস্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতা ও গ্রহীতাদের বেকায়দায় ফেলে বাড়তি টাকা পকেটে তুলে নিচ্ছে। বাজারে তারা আধিপত্য বজায় রেখেই চলেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর কার্যত নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্বলতার কারণে এই অসাধু চক্র সুযোগ বুঝে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে নিচ্ছে। দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে ভোক্তারা দামের দিক থেকে সুফল পাচ্ছেন না। অথচ বিশ^বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। গত এপ্রিলে এফএও-এর খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১৬৫ দশমিক ৫ পয়েন্টে। মার্চের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

প্রসঙ্গত, এফএও-এর খাদ্যমূল্য সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মূলত এ অবস্থা বিরাজ করছে। ভোজ্যতেল ও চিনিতে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা গেছে গত মাসে। এ সময়ে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামেও মন্দাভাব বজায় ছিল। আর চাল ছাড়া অন্য সব খাদ্যপণ্যের রপ্তানিমূল্য তিন মাস ধরে কমতির দিকে রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে বাজার চড়া। এখানে যে বাজার ব্যবস্থা চালু আছে তার সংস্কার জরুরি। ভুলগুলো শুধরে নিলেই বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমদানিকারকদের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে দূরদর্শী না হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম কমছে না বরং বাড়ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে সবসময় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে রাখেন আমদানিকারকরা। এই মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশের বাজারে পণ্যমূল্য বেড়েই চলেছে। দাম কমানোর বিষয়ে সরকারেরও দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে সবজি হিসেবে আলুর দাম বাড়তি। অথচ চাহিদার তুলনায় মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আলু ব্যবসায়ীরা। সে সময় টিসিবি ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি শুরু করে। পাইকারি বাজার ও সংরক্ষণাগারে চলে অভিযান। ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন। ফলে ফের নির্ধারণ করা হয় দাম। তিনস্তরে কেজিতে বাড়ানো হয় ৫ টাকা। এর আগে খুচরা বাজারে নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। এখন পূর্ব নির্ধারিত এই দামও মানছেন না ব্যবসায়ীরা। দুদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে দাম, বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা তৈরির ব্যবস্থা নিতে হবে। মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কবল থেকে বাজারকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বাস্তবতার ভিত্তিতে টিসিবিকে কার্যকর করতে হবে। দ্রব্যমূল্য জনগণের হাতের নাগালে রাখতে জাতীয় মূল্য কমিশন দ্রুত কার্যকর করতে হবে।বাজারকে দুষ্টচক্রের প্রভাবমুক্ত
করতে হবে

বাজারে এখন প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও সবজির দাম বেড়েই চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে অসাধু ও দুষ্ট চক্র। তারা ইচ্ছেমাফিক দাম রাখছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, আমাদের ভোগ্যপণ্যের বাজার দুষ্টচক্রের কবলে পড়েছে। এই চক্রের সদস্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতা ও গ্রহীতাদের বেকায়দায় ফেলে বাড়তি টাকা পকেটে তুলে নিচ্ছে। বাজারে তারা আধিপত্য বজায় রেখেই চলেছে। বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর কার্যত নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্বলতার কারণে এই অসাধু চক্র সুযোগ বুঝে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে নিচ্ছে। দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে ভোক্তারা দামের দিক থেকে সুফল পাচ্ছেন না। অথচ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমেছে। গত এপ্রিলে এফএও-এর খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১৬৫ দশমিক ৫ পয়েন্টে। মার্চের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

প্রসঙ্গত, এফএও-এর খাদ্যমূল্য সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মূলত এ অবস্থা বিরাজ করছে। ভোজ্যতেল ও চিনিতে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা গেছে গত মাসে। এ সময়ে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামেও মন্দাভাব বজায় ছিল। আর চাল ছাড়া অন্য সব খাদ্যপণ্যের রপ্তানিমূল্য তিন মাস ধরে কমতির দিকে রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে বাজার চড়া। এখানে যে বাজার ব্যবস্থা চালু আছে তার সংস্কার জরুরি। ভুলগুলো শুধরে নিলেই বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমদানিকারকদের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে দূরদর্শী না হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম কমছে না বরং বাড়ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে সবসময় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে রাখেন আমদানিকারকরা। এই মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশের বাজারে পণ্যমূল্য বেড়েই চলেছে। দাম কমানোর বিষয়ে সরকারেরও দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে সবজি হিসেবে আলুর দাম বাড়তি। অথচ চাহিদার তুলনায় মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আলু ব্যবসায়ীরা। সে সময় টিসিবি ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি শুরু করে। পাইকারি বাজার ও সংরক্ষণাগারে চলে অভিযান। ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন। ফলে ফের নির্ধারণ করা হয় দাম। তিনস্তরে কেজিতে বাড়ানো হয় ৫ টাকা। এর আগে খুচরা বাজারে নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। এখন পূর্ব নির্ধারিত এই দামও মানছেন না ব্যবসায়ীরা। দুদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে দাম, বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা তৈরির ব্যবস্থা নিতে হবে। মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কবল থেকে বাজারকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বাস্তবতার ভিত্তিতে টিসিবিকে কার্যকর করতে হবে। দ্রব্যমূল্য জনগণের হাতের নাগালে রাখতে জাতীয় মূল্য কমিশন দ্রুত কার্যকর করতে হবে।