সংবাদমাধ্যম হোক ভরসার স্থল

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সংবাদমাধ্যম হোক ভরসার স্থল

সম্পাদকীয় ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
সংবাদমাধ্যম হোক ভরসার স্থল

সংবাদমাধ্যমের যথাযথ ভূমিকায় একটি রাষ্ট্র পৌঁছাতে পারে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরে এমন চিত্রই প্রত্যক্ষ করেছে জাতি। অনুভব করেছে সংবাদপত্রের শক্তি-সামর্থ্য। সম্প্রতি এ আশাবাদই ব্যক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। গতকাল খোলা কাগজে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রজতজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সমাজের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ এ রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে। বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে, সেসব রিপোর্ট পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই। আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন। জাতির পিতা নিজেও তার জীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সাপ্তাহিক মিল্লাত এবং ইত্তেহাদ পত্রিকায় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

‘নতুন দিন’ নামে আওয়ামী লীগের জন্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সব সময় একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমি নিজেও সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য। জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্যবোধ থাকে। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনো দেশের কল্যাণ আনতে পারে না, বরং ক্ষতি করে। সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে, সেটা চিন্তা-চেতনায় এবং দেশপ্রেমে যেন উদ্বুদ্ধ হয়। তাদের ভিতর মানবতাবোধ যেন থাকে। তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর তারা অনেকগুলো পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেয় এবং প্রত্যেকটিতে হামলা চালায়। স্বাধীনতার পর এমন একটা অবস্থা হয়, এসব পত্রিকা চালানো সংবাদপত্র মালিকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বঙ্গবন্ধুই উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন। সরকারি বেতন সবাই পেতেন। সরকারি চাকরির মর্যাদাটা তিনিই দিয়েছিলেন। প্রোপাগান্ডার রাজনীতিতে সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয়েছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয়, উনি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছেন। ঘটনা কিন্তু তা নয়, তখন কারও (সংবাদপত্র মালিক) সাংবাদিকদের বেতন দেওয়ার মতো বা সংবাদপত্র চালানোর আর্থিক সেই ক্ষমতা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সংকট মোকাবিলায় সংবাদমাধ্যম নিশ্চয়ই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হবেন বলেই প্রত্যাশা।