ঐতিহ্যের আলোয় ফিরুক তাঁত

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঐতিহ্যের আলোয় ফিরুক তাঁত

সম্পাদকীয় ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

print
ঐতিহ্যের আলোয় ফিরুক তাঁত

তাঁতশিল্পীদের সমস্যা-সংকটের অভিযোগ পুরনো। এর মধ্যেই কাটছিল তাদের দিন। দুঃসময় শেষ হয়ে এলো বলে! দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পীদের জন্য আসছে সুখবর। তাদের হাতে তৈরি কারুকাজ উৎসাহিত করতে নেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোগ। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জামদানি পণ্যের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তাঁতশিল্পীদের বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিতে প্রদর্শনী কাম বিক্রয় কেন্দ্র ও বস্ত্র প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের কথা ভাবছে সরকার। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোতে স্থাপন করা হবে বস্ত্র ও পাট জাদুঘর। নাম হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে। সেখানে তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পরিবর্তিত বাজারে ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন নতুন ডিজাইন উদ্বোধন এবং দক্ষ ডিজাইনার ও মানবসম্পদ তৈরিতে হবে একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট।

‘বঙ্গবন্ধু বস্ত্র ও পাট জাদুঘর, জামদানি শিল্পের উন্নয়নে প্রদর্শনী কাম বিক্রয় কেন্দ্র, বস্ত্র প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট স্থাপন’ নামে প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগামী বছরের শুরুতেই আরম্ভ হবে কাজ, শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু বস্ত্র ও পাট জাদুঘর’ মুজিববর্ষে বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (পরিকল্পনা) আহ্বায়ক করে গঠিত নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবোতে একটি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের তাঁতশুমারি অনুযায়ী আড়াইহাজারে ২০০টি, সোনারগাঁয়ে দুই হাজার ৭৯৯টি, রূপগঞ্জে তিন হাজার ১৮৫টি সহ সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩টি জামদানি তাঁত বিদ্যমান। সে হিসাবে প্রায় ৩১ হাজার লোক জামদানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ঐতিহ্যের ধারক এ জামদানি শিল্পের উন্নয়নে ১৯৯২ সালে রূপগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী গ্রামে জামদানি পল্লী প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় সরকার। জামদানি শিল্প ও তাঁতিদের রক্ষা করাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জামদানি তাঁতিরা জানান, তারা বিসিকের কাছ থেকে প্লট ছাড়া কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। বিসিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রকল্প ও নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা জামদানি পল্লী নিয়ে চিন্তা করার সময় পান না। পানির লাইন, গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সমস্যার সমাধান তাঁতিদেরই করতে হয়। বিসিক, নোয়াপাড়া জামদানি পল্লীর হাটে বৃষ্টির সময় পানি পড়ে, বাতাস ও বৃষ্টি হলে দোকান গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। হাটে কোনো ওয়াশরুম, বিশ্রামাগার, ক্যান্টিন ইত্যাদির ব্যবস্থা নেই। ফলে মূল ক্রেতা নারীরা, মধ্যম ও উচ্চ শ্রেণির ক্রেতা এবং বিদেশি ক্রেতা এ হাটে কম আসেন। তাঁতশিল্পকে নিয়ে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে আমরা তাতে সাধুবাদ জানাই। সংশ্লিষ্টদের যথাযথ তৎপরতায় এ খাতে বিদ্যমান সমস্যা দূরীভূত হবে বলেই প্রত্যাশা।