হাসপাতাল হোক দালালমুক্ত

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

হাসপাতাল হোক দালালমুক্ত

সম্পাদকীয় ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

print
হাসপাতাল হোক দালালমুক্ত

চিকিৎসা নিয়ে যে অপবাণিজ্য শুরু হয়েছে, তাতে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পথ রুদ্ধ হচ্ছে সাধারণ মানুষের। নানামুখী ভোগান্তির পর সঠিক চিকিৎসা মিলছে না অনেকেরই। এ চিত্র শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, বাইরেও। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল এখন দালালচক্রের দখলে। ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন অফিসারের (এমপিও) নামে সক্রিয় এসব দালালচক্রকে অনেকটা নিয়ম করেই বৈধতা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডাক্তার পরিদর্শনে তাদের দেওয়া হয়েছে পাস-কার্ড। আর সেই কার্ড দেখিয়ে এমপিওরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড, বিশেষজ্ঞ চেম্বার দাপিয়ে চলছেন। যদিও সেই কার্ডের মেয়াদ গত মে মাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপরও মাথাব্যথা নেই হাসপাতাল প্রশাসনের। অভিযোগ আছে ডাক্তার পরিদর্শনের নামে এসব এমপিওরা জ্বালাতন করেন রোগীদের।

অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তারদের দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা রোগীদের জন্য লিখিয়ে নিয়ে দেখিয়ে দেন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেখান থেকেও তারা কমিশনের নামে হাতিয়ে নেন টাকা। আর তার ভাগ চলে যায় কর্তৃপক্ষের স্তরে স্তরে। বারডেম প্রশাসনের গোপন আঁতাতেই নাকি চলছে সব। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের ডিরেক্টর জেনারেলের (ডিজি) নাম ভাঙিয়েও কেবিন বুকিং থেকে প্রতি পদেই চলছে অনিয়ম। এদিকে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়েও উঠেছে নানান অনিয়মের অভিযোগ। ই-টেন্ডার চালু না করে চলছে মান্ধাতার নিয়মেই। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। সরেজমিন দেখা যায়, ১২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের ১৪৪ নম্বর কক্ষে পিপিই পরে বসে আছেন ডাক্তার। রোগী ভর্তির বিষয়ে খোঁজখবরের জন্য সেখানে হাজির প্রতিবেদক।

ডাক্তারের সঙ্গে কথাবার্তার ফাঁকে এলেন একজন। মুখে মাস্ক, সঙ্গে রয়েছে বারডেম কর্মীর পরিচয়পত্র। অনেকটা নির্দেশের সুরে এক ডাক্তারকে ডিজির নামে দুটো কেবিন রাখতে বলেন। চার্টে দেখে কাগজে দুটো কেবিনের নম্বর টুকে রাখলেন। অথচ ভর্তির জন্য টাকার বিনিময়ে আগাম বুকিং দেওয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন সিস্টেম হাসপাতালে নেই।’ ডিজির রেফারেন্সে তাহলে বুকিং কেন, প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘এসব বিষয়ে আপনাকে না জানলেও চলবে।’ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি শুধুই নির্দেশ মেনেছি।’ যে ব্যক্তি নির্দেশ দিয়ে গেলেন তার নাম-পদবি ও তার নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির এমপিওদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের নাকি পাস আছে। নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কারা এমপিও দেখে বোঝা কঠিন। রোগীর স্বজন সেজে ঢুকে পড়েন এমপিওরা। এ বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ইনচার্জ সেলিম বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি তবে কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে কোনো বিষয়েই তাদের কোনো গোপন যোগাযোগ নেই।’ করোনার কারণে আটকে যাওয়া বারডেমের বার্ষিক টেন্ডার নিয়ে গত বুধবার মিটিং হয়। এর আগের দিন টেন্ডার ওপেন করা হয়। ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার আগের টেন্ডার ঘিরেও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার পথ নিষ্কণ্টক থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেই প্রত্যাশা।