পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির উদ্যোগ নিন

ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয় ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

print
পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির উদ্যোগ নিন

পর্নোগ্রাফির চোরাবালিতে পথ হারিয়েছে কেউ কেউ। যারা একবার এ ফাঁদে পড়ে তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। সমাজেও পর্নোগ্রাফি সৃষ্টি করে নেতিবাচক পরিস্থিতি। এর ক্ষতিকর দিক অনেক, ভালো দিক নেই একটিও! গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছে দেশের কিশোরী ও তরুণীরা। ইতোমধ্যে এমন চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে কমপক্ষে ৪৫ কিশোরীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও। র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রের বাকিদের ধরে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। এক্ষেত্রে পরিবারসহ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করে প্রথমে আলাপচারিতার মাধ্যমে সখ্য গড়ে তুলত একটি চক্র।

ভার্চুয়াল প্রেমের একপর্যায়ে ওই কিশোরী ও তরুণীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হতো নগ্ন ছবি ও ভিডিও। চক্রটি সেসব নগ্ন ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করত বিভিন্ন পর্নো গ্রুপ ও ওয়েবসাইটে। এভাবেই সেসব ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে যেত ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিশে^র এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। কয়েক বছর আগে ঢাকার এক তরুণের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর। তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে তার নগ্ন ছবি দেওয়ার প্রস্তাব করে ছেলেটি। বিশ^স্ততা অর্জন করায় চাপাচাপির একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার ঢাকার বন্ধুটিকে কিছু নগ্ন ছবি দেয়। পরে ওই কিশোরী বুঝতে পারে সে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে। এরপরই ফেসবুকে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কাছে অভিযোগ জানায় মার্কিন কিশোরী।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ পাওয়ার পরই চক্রটিকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। দীর্ঘ আট মাস অনুসন্ধানের পর গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক এ চাইল্ড পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বোরহানের ব্যবহৃত কম্পিউটার থেকে প্রায় তিন হাজার ৩০০টি ফাইলে অভিযোগকারী মার্কিন কিশোরীসহ ৪৫ জন দেশি-বিদেশি কিশোরীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তার কম্পিউটারটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। সে ইনস্টাগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। কিশোরীদের সঙ্গে পরিচয়ের পর সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে তাদের কাছ থেকে নগ্ন ছবি-ভিডিও কনটেন্ট সংগ্রহ করে সেগুলো চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপগুলোতে আপলোড করত।

এ বিষয়ে সিটিটিসির সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, চক্রটি নিজেদের পরিচয় গোপন করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উঠতি শিশু-কিশোরীর সঙ্গে পরিচিত হয়। এরপর কৌশলে তাদের নগ্ন ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে তা পর্নোগ্রুপ ও ওয়েবসাইটগুলোতে ছড়িয়ে দেয়। ডার্ক ওয়েবসাইটেও তাদের রেজিস্টার্ড মেম্বারশিপ আছে বিভিন্ন ধরনের পর্নো ওয়েবসাইটে। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। পর্নোগ্রাফি বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।