খামারির দুঃসময়ে পাশে থাকুন

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

খামারির দুঃসময়ে পাশে থাকুন

সম্পাদকীয় ৪:২০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০২০

print
খামারির দুঃসময়ে পাশে থাকুন

সারা দেশে ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক খামার গড়ে ওঠায় একদিকে কমেছে বেকারত্ব, অন্যদিকে মিটছে মানুষের পুষ্টি চাহিদা। এছাড়াও খামারের আরও বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু এবারকার কোরবানির ঈদ ও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব গবাদি ডেইরি ফার্ম এবং ব্যক্তিপর্যায়ে গরু পালনকারীদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। সারা বছর গরু পালন করে ঈদুল আজহায় বিক্রি করে খরচ তোলার লক্ষ্য ছিল। চার মাস ধরে করোনার উপর্যুপরি আঘাত আর ঈদে গবাদি পশু ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পারায় বড় লোকসান গুনতে হল খামারিদের। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক বছরে দেশি খামারগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে খামার বৃদ্ধির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। দেশে বর্তমানে খামারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ লাখে।

খামারে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষ মিলে এক কোটি ১৯ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। এর বাইরে ছিল ব্যক্তি পর্যায়ে গরু-ছাগল। পল্লী অঞ্চলে কৃষক ও প্রান্তিক মানুষ গরু পালন করেন। এ হারও কম নয়। এসব খামার ও ব্যক্তিপর্যায়ে গবাদি পশু পালনে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। দুগ্ধ উৎপাদনের বাইরে পুরোটাই প্রায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। সারা বছর গরু-ছাগল পালন করে কোরবানির ঈদের আগে বিক্রি করে। কিন্তু এবার ঈদে গরু বিক্রি করে সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারণে গবাদি পশু খামার ও ব্যক্তিপর্যায়ে গবাদি পশু পালনকারীরা সর্বসান্ত হয়েছে। গত এক বছরে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বেড়েছিল ১৫ থেকে ধরন ভেদে ২০ শতাংশ। অন্য সময় কোরবানির ঈদ ও সারা বছর ধরে ভারত এবং মিয়ানমার থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ গরু আসত।

গত মার্চে করোনার কারণে পুরো দেশ লকডাউনে চলে গেলে দেশের এসব ফার্মের গরু ও দুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু খরচ অব্যাহত থাকে। এরপর করোনার কারণে ঘোষিত ছুটি শিথিল হলে উৎপাদন, বিপণন, যোগাযোগব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। তারপর লক্ষ্য ছিল কোরবানির ঈদ। ঈদে বেচাকেনা করতে পারলে লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু ঈদে গরু বিক্রি করে দাম না পাওয়ায় ক্ষতটা আরও গভীর হয়। বছরের অধিক সময় ধরে পশুর পেছনে খরচ করে ঈদের আগে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে। বছর ধরে বিনিয়োগ করে অর্ধেক টাকা ওঠেনি। ব্যাংক ঋণ শোধ করে আবার ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করবে নাকি অন্য কোনো ব্যবসা শুরু করবে তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গবাদি পশু পালনের জন্য তহবিল ঘোষণা করেছে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল। ৪৩টি ব্যাংক এ তহবিল বিতরণের জন্য বাংলাদেশ, ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ফসল উৎপাদনেও অনুরূপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। খামারিরা এখন সংকটকাল অতিক্রম করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। অন্যথায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ। সংশ্লিষ্টরা তৎপর হবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।