পুলিশের সঙ্গে অপরাধীর সখ্য কাম্য নয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

পুলিশের সঙ্গে অপরাধীর সখ্য কাম্য নয়

সম্পাদকীয় ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

print
পুলিশের সঙ্গে অপরাধীর সখ্য কাম্য নয়

রক্ষক হয়ে যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়Ñ এর চেয়ে লজ্জার ও মানবতার জন্য অবমাননাকর আর কিছুই হয় না। পেশাকেও কলঙ্কিত করা হয় এমন আচরণে। পুলিশের সঙ্গে অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের ‘আত্মীয়তা’র অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রায়ই বিষয়টি আলোচিত হয়।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঘুরে-ফিরে রাজশাহী মহানগর পুলিশেই থেকে গেছেন তারা। কেউ আছেন ১৭ বছর ধরে কেউ ১৫ বছর ধরে। আবার কেউ রয়েছেন দুই যুগ ধরে। আর সেই সুযোগে অপরাধ জগতের হোতাদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সখ্য। নিজেরাও কখনো কখনো জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপরাধে।

অন্তত ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন আরএমপিতে। এসব পুলিশ সদস্যদের নানা অপরাধের বিষয়গুলো তুলে ধরে পুলিশ সদর দফতরেও প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু টলেনি তাদের অবস্থান। শক্ত খুঁটি গেড়ে বসে আছেন তারা আরএমপিতেই। তবে কেউ কেউ বছরের পর বছর আরএমপিতে থাকলেও এখনো সুনামের সঙ্গেই চাকরি করে যাচ্ছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাবারক হোসেন পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন ১৯৯২ সালের ৫ নভেম্বর।

পরের দিন ৬ নভেম্বর তিনি আরএমপিতে যোগ দেন। সেই থেকে এখানেই রয়ে গেছেন তিনি। কনস্টেবল থেকে এএসআই এবং ২০১১ সালে এসআই পদে পদোন্নতি পেয়েও আরএমপিতেই অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে নগরীর বিমানবন্দর থানায় কর্মরত রয়েছেন।

রাজপাড়া থানা এসআই শরিফুল ইসলাম ১৯৯৮ সালের ৬ জুন পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি আরএমপিতে যোগদান করেন ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ। তিনিও কনস্টেবল থেকে এএসআই এবং ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর এসআই পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে এখনো রয়েছেন এখানেই। এসআই উত্তম কুমার বর্তমানে কর্মরত বোয়ালিয়া মডেল থানায়। এখানেই কর্মরত রয়েছেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

তিনি ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। ওইদিনই তিনি প্রথম কর্মস্থল হিসেবে আরএমপিতে যোগ দেন। তিনিও এএসআই থেকে এসআই পদে পদোন্নতি পেয়েছেন এখানেই। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই গোলাম মোস্তফা রয়েছেন ১৩ বছর ধরে। তিনি ২০০৪ সালে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৭ সালের ২৪ মে আরএমপিতে যোগদান করেন। এরপর দুই দফা পদোন্নতিতে তিনি এখন এসআই।

পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো একটি প্রতিবেদন সূত্র মতে, এর বাইরেই রাজশাহী মহানগর পুলিশের আরও ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন এখানেই। এসব পুলিশ সদস্যের কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক কেনাবেচায় জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করে উৎকোচ গ্রহণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে।

আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন চাকরি করলেও এখনো বড় ধরনের কোনো অভিযোগ ছাড়াই সুনামের সঙ্গেই চাকরি করে যাচ্ছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটা সত্য, খারাপ সদস্য যেমন রয়েছেন, ভালো সদস্যও আছেন পুলিশ বাহিনীতে। তবে পুলিশের সঙ্গে অপরাধীদের সখ্য কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এই অব্যবস্থাপনা বন্ধে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।