সুমতি ফিরুক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

সুমতি ফিরুক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

সম্পাদকীয় ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

print
সুমতি ফিরুক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে এক মহাপরিচালকের পদত্যাগ; অন্যদিকে আরেকজনের নিয়োগপ্রাপ্তি বর্তমানে আলোচনার বিষয়। রুগ্ন স্বাস্থ্যখাতের পরিচর্যা করেই সেবা দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। চলছে এমন আলোচনা ও ভবিষ্যতের ইতিবাচক আশাবাদ। সবসময় সরগরম থাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে এখন আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

করোনাকালে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতিবাচক কাজের কারণে এখন সবার মধ্যে এ আতঙ্ক। অভিযোগের দায় ঘিরে গত ২১ জুলাই অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেন। পরদিনই পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সবাই আতঙ্কে আছেন। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, অধিদফতরের কমপক্ষে ১০ জন কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তারা কারা, কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে, এরপরের আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে সেসব নিয়েও আতঙ্ক কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, দুদক, ডিবির যাতায়াত এবং অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্থির সময় কাটছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না, না জানি আবার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় অনুমোদনহীন বেসরকারি হাসপাতাল রিজেন্ট ও জেকেজির (জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার) প্রতারণার খবর প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পায়। রিজেন্ট এবং জেকেজির শীর্ষ ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে, মামলাও চলছে। তবে অনুমোদনহীন রিজেন্ট হাসপাতাল কীভাবে করোনা পরীক্ষার সরকারি তালিকাতে এলো তা নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর একে অপরকে দোষারোপ করে।

মহাপরিচালক থাকাকালীন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন। এরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে শোকজ করে। ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে জবাব চায়। সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের নির্দেশে রিজেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়কে জানান অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান।

বেশকিছু রদবদল হল, কাজের জায়গাতে কোনো ঘাটতি অথবা কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কিনাÑ এমন প্রশ্নে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদফতর অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের যে কাজ সেটা একদিনে থেমে যাওয়ার বিষয় নয়। প্রতিদিনের কাজ যেমন চলে সেভাবেই চলছে, কোথাও কোনো বাধা বা বিপত্তি নেই।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অধিদফতরের নিয়মিত যে কাজ যেমন করোনার নমুনা সংগ্রহ, নমুনা পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি চালানো সবই চলছে এবং পরিচালকরা সেভাবে হাসপাতালে কাজ করছেন। কাজেই দৈনন্দিন কোনো কাজে অসুবিধা হচ্ছে না। সব কাজই রুটিনমাফিক চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে সংশ্লিষ্টরা মতামত দিলেন জনস্বাস্থ্যের বারোটা বেজে গেছে অনেক আগেই। মৌলিক অধিকার হিসেবে সুচিকিৎসা মিলছে না দেশবাসীর। এর নেপথ্যে কাজ করছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, অসৎ চিকিৎসকসহ দুর্বৃত্ত চক্র। স্বাস্থ্যখাতের সুমতি ফিরুক, সাধারণ মানুষ সেবা পাকÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।