দূর হোক উদ্বাস্তুর হাহাকার

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

দূর হোক উদ্বাস্তুর হাহাকার

সম্পাদকীয় ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

print
দূর হোক উদ্বাস্তুর হাহাকার

বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, অনেক মানুষই এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ ঘরহীন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ কল্পনাই করা যায় না। সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে সমস্যাটির সমাধান করতে। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের অঙ্গীকার, দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে যেভাবেই পারি, একটা চালা হলেও করে দেব।’

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনের সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৬০০ জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ খ্যাত বিশেষ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গতকাল খোলা কাগজে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমাদের সমস্ত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য কেউ গৃহহীন থাকবে না। সবার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। অন্তত একচালা করে হলেও দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর করে দিচ্ছি।

শুধু এখানে বলেই না, সারা বাংলাদেশে কোথায় গৃহহীন ভূমিহীন মানুষ আছে, তাদের আমরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদেরও ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা তহবিল করা আছে। সেখান থেকে যে কেউ বা যেকোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গিয়ে দেখলাম জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি, ভিটামাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে আছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের পুনর্বাসন করব। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্প। এখানে নতুন শহরের মধ্যে মানুষ বসবাস করতে পারবে।’

ফ্ল্যাটপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখানে আলাদা একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠবে। আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে, এখন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলেমেয়েরা মানুষ হবে, বড় হবে। সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

কক্সবাজার আমাদের পর্যটক এলাকা। কক্সবাজার সৈকতে বিশাল ঝাউবন। এটা জাতির পিতার নির্দেশেই করা হয়েছিল যেন প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস থেকে কক্সবাজার শহরটা রক্ষা করা যায়।

গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করে তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। উদ্বাস্তু হাহাকার আমাদের যেন আর দেখতে না হয়। আসুক সেই কাক্সিক্ষত সুদিন!