বন নিয়ে দ্বিমুখী খেলা বন্ধ করুন

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

বন নিয়ে দ্বিমুখী খেলা বন্ধ করুন

সম্পাদকীয় ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

print
বন নিয়ে দ্বিমুখী খেলা বন্ধ করুন

বন নিয়ে যে ভানুমতির খেইল শুরু হয়েছে তা থামছেই না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে যে পরিমাণ বনভূমি থাকা উচিত সে পরিমাণ নেই। অন্যদিকে যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তাও দুর্বৃত্তরা ‘নগদ লাভের লোভে’ ধ্বংস করতে মরিয়া। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভবনে গত ১৬ জুলাই গাছের চারা রোপণ করে মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে সারা দেশে এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবেশ, বন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় বর্তমান সরকারের এটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

কিন্তু এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চললেও গাজীপুরে একদিকে বনায়ন অন্যদিকে বন দখলের হিড়িক পড়েছে। ভাওয়াল বন হিসেবে খ্যাত ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুরে কাগজে-কলমে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ হাজার একরের বেশি। তবে বাস্তবে গত দুই দশকে জেলার মোট বনাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি বেহাত হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

বিগত প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) শফিউল আলম চৌধুরীর আমলে গাজীপুরে রেকর্ডসংখ্যক বনভূমি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দখলে চলে যায়। অথচ গাজীপুরে বনভূমি রক্ষায় ঢাকা বন বিভাগ এবং ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও গাজীপুরে বন দখলের ঘটনায় ঢিলেঢালা তদন্ত এবং তদন্তের নামে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বেহাত বন উদ্ধার ধোঁয়াশায়।

এছাড়া অযোগ্য, বিতর্কিত এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের ঘুরে ফিরে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ বিটের দায়িত্ব দেওয়ায় জেলায় একের পর এক বন দখলের ঘটনা ঘটছে। অথচ উচ্চ পর্যায়ের তদবিরে গাজীপুরে দুর্নীতিগ্রস্তদের পোস্টিং ঠেকানোর পরিবর্তে নিজের চেয়ার রক্ষায় ব্যস্ত বন অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

ঢাকা বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিটের ফাউগাইন এলাকায় বর্তমান বিট কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী শেখের আমলে বনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন হানি নামে এক ব্যক্তি। নিশ্চিন্তপুর মৌজায় ফাউগাইন দরগার অদূরে নতুন ঢেউটিন দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন শামসুল। ওই বাড়ির পাশে কুমুর উদ্দিন নামে আর এক ব্যক্তি বনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিটে বন দখল করেছে ফাউগাইন ইকো রিসোর্ট। ওই রিসোর্টটির দক্ষিণে শাহাজ উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে আমজাদ হোসেন বনে টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

ধলাদিয়া এলাকায় ধলাদিয়া কলেজের দক্ষিণ পূর্ব দিকে সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় দুলাল সিকদার নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া নিশ্চিন্তপুর মৌজার লাগোয়া নয়াগাঁও মৌজার ৩৮৮ নম্বর সিএস দাগে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি বন দখল করে বিভিন্ন প্রজাতির ফল বাগান গড়ে তুলেছেন। অথচ বেহাত ওই বনভূমি উদ্ধার করে সুফল প্রকল্পের আওতায় নেয়নি সংশ্লিষ্ট বিট অফিস।

বন বেহাত কাণ্ডে নীরব ভূমিকা প্রসঙ্গে রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিট কর্মকর্তা আইয়ুব আলী শেখ জানান, বনে এসব ঘরবাড়ি কবে নির্মিত হয়েছে তিনি জানেন না। হয়ত আগের কর্মকর্তার আমলে এসব ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছে! বন নিয়ে দ্বিমুখী খেলা কোনো অবস্থাতেই প্রত্যাশিত নয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বনভূমি রক্ষা জরুরি।