পাটচাষিদের বরাভয় দিন

ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২০ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

পাটচাষিদের বরাভয় দিন

সম্পাদকীয় ৯:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

print
পাটচাষিদের বরাভয় দিন

সোনালি আঁশ খ্যাত পাট নানাভাবেই অবহেলিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশে। একে একে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পাটকল। এর আগে বকেয়া বেতন দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন-সংগ্রামও দেখতে হয়েছে। পাট নিয়ে যখন চারদিকে শুধু মন্দ খবর, তখন রাজশাহীতে দেখা গেল ইতিবাচক চিত্র।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাট বিক্রি নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে এমন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। তার ওপরে রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষাবাদ হয়েছে। অধিদফতর জানায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৯৫০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানায়, রাজশাহী জেলায় এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু ২৬ হেক্টর বেড়ে চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। আর গত বছর ১৩ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পাটের চাষাবাদ হয়েছিল।

পাটের চাষ প্রতিবছরই বাড়ছে। রাজশাহী জেলায় গত বছরের তুলনায় ৯৫০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় পাট চাষে ঝুঁকেছে কৃষক। গেল কয়েক বছর পাটের ফলন ও দাম ভালো ছিল। তাই লাভের মুখ দেখতে এবছর আবাদের পরিমাণও বাড়িয়েছিল কৃষক। আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। তবে এখনও বাজারে কৃষকের পাট আসতে শুরু করেনি। এরই মধ্যে দাম নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা হাটের পাইকারি ক্রেতা মঈন উদ্দিন জানান, পাট এখনো বাজারে উঠতে শুরু করেনি। দাম কেমন হবে পাট উঠলেই বোঝা যাবে। সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ, তবে পাটের দাম বলা যাচ্ছে না কেমন হবে। যদি বেসরকারি পাটকলগুলো সিন্ডিটেক করে পাটের দাম কমায়, তাহলে বেকায়দায় পড়ে যাবে কৃষকরা।

পবার দুয়ারির কৃষক আফরোজ জানান, এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে হাল চাষ, সার, বীজ কিনতে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। কমপক্ষে ৩ বার জমিতে নিড়ানি দিতে ১৫ জন মজুরকে দিতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা। পাট কাটতে আরও ২ হাজার টাকা ও ধুতে লাগছে ২ হাজার টাকা। তারপরে এবার সরকারের পাটকলগুলো বন্ধ। পাট কিনবে কারা? এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে একজন কৃষকের ব্যয় হয় ৯ হতে ১০ হাজার টাকা। অথচ একবিঘা জমিতে বড়জোর পাট পাওয়া যায় ৮ মণ। এবার কত টাকা দরে বিক্রি হবে পাট এমন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। অন্যদিকে, দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের পাট নিয়ে এবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, পাটের দাম ভালো থাকায়, কয়েক বছর থেকে পাটের আবাদ বেড়েছে। সরকারি পাটকল বন্ধ। তবুও পাট বিক্রিতে কৃষকের সমস্যা হবে না। বেসরকারি পাট কলগুলো রয়েছে। বিদেশেও পাটের ব্যাপক চাহিদা। কৃষকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। পাট নিয়ে কৃষকদের যেন দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয় সংশ্লিষ্টদের সেই ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পাটচাষিকে দিতে হবে বরাভয়।