অপরাধমূলক কাজে জড়িত রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করুন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

অপরাধমূলক কাজে জড়িত রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করুন

সম্পাদকীয় ৫:১২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
অপরাধমূলক কাজে জড়িত রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করুন

মানবিক কারণেই বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছিল বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে। তারপর দেশ নানাভাবেই পর্যুদস্ত হয়ে চলেছে। এই রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। প্রায়ই আলোচিত এসব খবর একধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। গত চার মাস ধরে কক্সবাজারসহ পুরো বাংলাদেশ করোনা আতঙ্কে। সাধারণ মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত সময় পার করছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু মাদক কারবারি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাদক ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে সারা দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে মরণ নেশা ইয়াবা পাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এরই মাঝে কিছু মাদক কারবারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তারা অনেক সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশ মাদক কারবারি রোহিঙ্গা বলে জানা যায়।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ইয়াবাসহ শরণার্থীদের আটকের সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশের  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে রোহিঙ্গা নারী, কিশোর ও পুরুষরা। গত বছর মে মাসে সরকার ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’স্লোগানে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে সীমান্তে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। তখন থেকেই ইয়াবা কারবারিদের প্রথম ধাক্কা লাগে। ইয়াবার আস্তানায় এবং ইয়াবা কারবারিদের ঘরে ঘরে পুলিশের একের পর এক হানায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে কারবারিরা। এছাড়া সীমান্তে র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৈরি করা ইয়াবা কারবারিদের তালিকায় বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গা শরণার্থীর নাম আছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। এদিকে রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, ইয়াবা গডফাদারদের অধিকাংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠ। র‌্যাবের এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাবে ১৫ সূত্র জানিয়েছে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ১০,৮৩,৭১৯ পিস। গ্রেফতার হয়েছে ১৮৭ জন আর র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ১০ জন। মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাড়ার পর মেথাফেটামাইন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি ‘উত্তেজক বড়ি’ ইয়াবার পাচার বেড়ে গেছে। যে কারণে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অনেক বেশি ইয়াবার চালান ও পাচারকারী ধরা পড়ছে। বিগত চার বছরে প্রায় ৫ হাজারের বেশি আসামি ধরা পরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার পর অবস্থান যতটা নীরব ছিল, এখন তেমনটি নেই। আগে তাদের চাহিদা ছিল খাদ্য এবং চিকিৎসার ওপর। এখন রেশনের খাবার খেয়ে আলস্যতার কারণে তাদের মাথায় দুষ্টবুদ্ধি কাজ করে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া ক্যাম্পগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি যুবক। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে সংখ্যাগত দিক দিয়ে একটু খারাপের দিকেই যাচ্ছে। আশ্রিত থেকে এমন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া একধরনের ধৃষ্টতা। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী সাজা নিশ্চিত করাই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান।