ঘরমুখী মানুষের ঈদ যাতায়াত নীতি নির্ধারণ হোক সত্বর

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

ঘরমুখী মানুষের ঈদ যাতায়াত নীতি নির্ধারণ হোক সত্বর

সম্পাদকীয় ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
ঘরমুখী মানুষের ঈদ যাতায়াত নীতি নির্ধারণ হোক সত্বর

ঈদকে কেন্দ্র করে নাড়িমুখী হয় মানুষ। তবে এবার ঈদ অপরাপর ঈদের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। যে কারণে যাতায়াতও পুরনো পদ্ধতিতে হবে না। ঈদুল আজহায় গণপরিবহন চলবে কিনা সে বিষয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় আছেন। কারণ করোনাভাইরাসের প্রকোপে গত ঈদে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মালিকরা সরকারের দেওয়া সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনেই ঈদে বাস চালাবেন বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এর আগে ঈদুল ফিতরের সময় গণপরিবহন বন্ধ রেখেছিল সরকার। এর মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১ জুন থেকে দেশে সীমিত আকারে অর্ধেক যাত্রী ও ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে দূরপাল্লার বাসগুলো শুরু থেকে যাত্রী সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন মালিকরা।

এ বিষয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খোলা কাগজ। কয়েকজন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো নিশ্চিত নন যে ঈদে পরিবহন চলাচল করবে কিনা। তারা বলেন, আমরা চাই পরিবহন চলুক। করোনার কারণে দেশে লাখ লাখ পরিবহন শ্রমিক এখন অসহায় জীবনযাপন করছেন। পরিবহন চলাচল করলে অসহায় শ্রমিকদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটবে। আমরা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়েই যাত্রী পরিবহন করতে চাই। এ বিষয়ে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোজার ঈদের সময় পরিবহন বন্ধ ছিল। এখন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে। এই নিয়মেই যদি কোরবানির ঈদের সময় পরিবহন চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী বাস চালাব। এছাড়া ঈদে যাত্রী পরিবহনে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটের সেন্টমার্টিন পরিবহনের মালিক ও কুমিল্লা জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, রোজার ঈদে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তখন আমাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। গত ১ জুন থেকে সীমিত যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয় সরকার। আমরাও সরকারের সব নির্দেশনা মেনে পরিবহন চালাচ্ছি। ঈদুল আজহায়ও যদি এ একই নিয়মে পরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, তাহলে আমরাও বাসের সংখ্যা বাড়াব। যেন কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে যাত্রীরা না পড়েন। আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, দেশের গণপরিবহনগুলো বর্তমানে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। সরকার যদি ঈদের সময়েও একই নিয়মে পরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয়, তাহলে আমরা সেভাবেই তা পালন করব। ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়। কিন্তু এবার করোনার ঝুঁকি রয়েছে। এ ঝুঁকি থেকে রক্ষায় আমরা বাসের সংখ্যা বাড়াব। আমরা চাই সরকারের দেওয়া সব নির্দেশনা মেনে গাড়ি চালাতে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত সত্বর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া। যাতে সবাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।