পানিবন্দি মানুষের পাশে থাকুন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

পানিবন্দি মানুষের পাশে থাকুন

সম্পাদকীয় ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৩, ২০২০

print
পানিবন্দি মানুষের পাশে থাকুন

দেশের কয়েকটি জেলায় করোনার পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত বন্যাও মোকাবেলা করছে মানুষ। সইতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এর শেষ কোথায় তাও অজানা এখনো। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির।

ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের। অপরদিকে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিনযাপন করছেন। কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া বানভাসী অনেক পরিবারের ঘরে খাবারও শেষ হয়ে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও অপ্রতুলতার কারণে অনেকের ভাগ্যে জুটছে না তা। জেলার ৯ উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার পার্বতীপুর চরের মজির আলী, সবিরন, রব্বানী জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে পার্বতীপুর চরের সব ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে। বাড়িতে শুকনো জায়গা না থাকায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে তাদের। পার্শ্ববর্তী চরগ্রাম গারুহারা বলদিয়াপাড়ার বাসিন্দারা জানান, ঘরবাড়িতে পানি উঠলেও নৌকা না থাকায় ঘরের চৌকি উঁচু করে সেখানেই বাস করছেন তারা। খাদ্য সংকটে ভুগলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের মতো অবস্থা ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের অববাহিকার উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ি ও রাজারহাট উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের আড়াই শতাধিক চরাঞ্চলের। অন্যদিকে বন্যার পানিতে ডুবে বুধবার এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় তিন শিশুসহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, জেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার ৮ পৌরসভা ও ৪২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ৩ লাখের বেশি মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। বন্যার পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন। সরকারসহ মানবপ্রেমীরা এই বন্যাদুর্গতদের দুঃখ লাঘবে উদ্যোগ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।