আইসিইউ সংকট লাঘব করুন

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

আইসিইউ সংকট লাঘব করুন

সম্পাদকীয় ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০২০

print
আইসিইউ সংকট লাঘব করুন

বেড়েই চলেছে করোনার প্রাদুর্ভাব। সেই সঙ্গে বাড়ছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। প্রকট হয়ে উঠছে আইসিইউ সংকট। করোনা চিকিৎসার পরিধি সরকার অনেক বাড়ালেও সংকট আড়াল করা যাচ্ছে না। শুধু করোনার জন্য বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অনেক রোগী প্রয়োজনীয় সাপোর্ট না পেয়ে মারা গেছেন।

আইসিইউ সংকটে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের এক পরিচালকসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী মারা গেছেন। অনেক চিকিৎসক নিজেদের হাসপাতালেই আইসিইউ সেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা একটা অশনিসংকেত। এ সংকটের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে গতকাল খোলা কাগজে।

খোদ চিকিৎসক, পদস্থ কর্মকর্তা, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের যদি এই পরিণতি হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র এখনও সন্তোষজনক নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যেক জেলার হাসপাতালে আইসিইউ চেম্বার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে যথাক্রমে ৫০৮ ও ৭৩৭টি আইসিইউ বেড রয়েছে।

যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিভিন্ন জেলায় আইসিইউ সংযুক্ত আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন অনুসারে গড়ে ওঠেনি। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম (৬৫) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। ওই সময় কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর আসে মোরশেদুলের আরেক ভাইও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সংকট দেখা দেয়।

করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে থাকা চিকিৎসকরাই চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার নিজের মালিকানাধীন হাসপাতালে করোনা চিকিৎসাসেবা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক লুৎফুল কবির শিমুল। ওই দিন করোনায় প্রাণ হারান বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি চিকিৎসক ওয়াহেদুজ্জামান খন্দকার। অনেক চেষ্টা করেও ওই হাসপাতালে আইসিইউ পাননি।

দেশে প্রথম করোনায় প্রাণ হারানো চিকিৎসক ডা. মঈন নিজের প্রতিষ্ঠানের আইসিইউ ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাননি। এভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও করোনা চিকিৎসায় আইসিইউ সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ রোগীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে জানতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে কী করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও সাধারণ মানুষ এসব আধুনিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মূলত চাহিদার তুলনায় আইসিইউ বেডের তীব্র সংকট। করোনা রোগীর সংখ্যা যত বাড়ছে আইসিইউয়ের চাহিদা তত বাড়ছে। কিন্তু রাতারাতি এ ধরনের সেবা বাড়ানো যায় না। তাছাড়া আইসিইউ সেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ সাপোর্টিং স্টাফ নেই।

পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং প্রত্যেক জেলা হাসপাতালে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ দ্রুত নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার একনেক সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর অগ্রাধিকার দিয়েছেন জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনে। বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ কাম্য। প্রত্যেক রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবার সুবিধা দেওয়া সময়ের দাবি।