এসএসসি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন পেরোতে হবে বিস্তীর্ণ পথ

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

এসএসসি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন পেরোতে হবে বিস্তীর্ণ পথ

সম্পাদকীয় ৭:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ০১, ২০২০

print
এসএসসি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন পেরোতে হবে বিস্তীর্ণ পথ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন নাকাল বিশ্ব, তখনই বাংলাদেশে প্রকাশিত হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট। গত রোববার প্রকাশিত ফল প্রকাশের দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল না আনন্দ উদযাপনের চিরাচরিত দৃশ্য। মিষ্টির দোকানেও ছিল না উপচেপড়া ভিড়। বাঁধভাঙা আনন্দকে একপ্রকার অবদমিতই করে রাখতে হয়েছে। পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুদিক দিয়েই এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে সেই অর্থে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠতে পারেনি মেধাবী শিক্ষার্থীরা। আবার বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে কোথাও কোথাও। করোনার মধ্যেও এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে দেশজুড়ে উৎসব তৈরি হয়েছে। মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও মহামারি করোনার প্রকোপ ভুলে গেছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। এ হিসাবে এবার পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে ৩০ হাজার ৩০৪ জন। গত বছর মাধ্যমিক স্তরের এ সমাপনী পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবারের মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের আমরা অভিনন্দন জানাই, যারা কৃতকার্য হয়েছে এবং যারা হয়নি। সামনে পড়ে আছে বিস্তীর্ণ পথ, এ জন্য এখনই তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেজন্য এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে না। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। পরিস্থিতি দেখে তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, হয়ত কলেজ এখন আমরা খুলব না, খুলতে পারছি না। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। যাতে এই করোনাভাইরাস দ্বারা শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়, কারণ এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আমি ভবিষ্যৎ তো ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সেই কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনই উন্মুক্ত করব না। আমরা দেখি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যায়ক্রমে আমরা তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো সবাই যেন ঘরে বসে পড়াশোনা করে। এটা একটা পড়াশোনার ভালো সুযোগও। আমাদের নিজেদেরও এখন বেশি কাজ নেই অনেক কিছু জানার, পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। সেটাও কম কথা না। এখানে আমি বলব সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সেই শিক্ষাই দেবেন যে শিক্ষাটা হচ্ছে শুধু নিজে ভালো থাকা না, দেশের কল্যাণে কাজ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। যেটা জাতির পিতা আমাদের বারবার শিখিয়েছেন। আমরা মনে করি, এ সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন ভর্তিযুদ্ধ মোকাবেলা করতে পারে সহজেই।