গণপরিবহন হোক যাত্রীবান্ধব

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গণপরিবহন হোক যাত্রীবান্ধব

সম্পাদকীয় ৭:৪২ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

print
গণপরিবহন হোক যাত্রীবান্ধব

গতকাল থেকে ফের চালু হয়েছে গণপরিবহন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাঝখানে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চলবে। বিষয়টি নিয়ে থাকছে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক। চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনাও। ছুটির সময়েই নাগরিকরা নিয়ম ভেঙে চলাচল করেছেন। বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যাত্রী সাধারণকে গুনতে হবে বাড়তি ভাড়া। গত শনিবার বাস ভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিববহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের অঘোষিত লকডাউনে নাগরিকদের ঘরে রাখা যায়নি, নানা অজুহাতে বহু মানুষ বের হয়েছে। বাইরে ঘোরাফেরা করেছে। ফলে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সেই ঝুঁকি আরো বাড়বে।

করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। সেখানে গণপরিবহন চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এতে সমস্যা আরও বাড়বে। এমনিতেই সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার কমেছে। সেখানে বাড়তি ভাড়া যোগ হলে সমস্যা আরও বাড়বে। সাধারণ যাত্রীরা মনে করছেন, সিটিংয়ের নামে এমনিতেই চিটিং করে এসব পরিবহন। সিটিং হিসেবে উঠলে দেখা যায় পুরোপুরি লোকাল। নানা জায়গা থেকে মানুষ ওঠায়-নামায়।

কিন্তু ভাড়া নেয় দু-তিনগুণ। কোনো সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকায় সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখন আবার করোনার অজুহাতে ভাড়া বাড়ালে তা হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। কম যাত্রী ওঠানোর কথা বললেও গণপরিবহনকর্মীরা তা মানবে না। ঠিকই আগের মতো যাত্রী তুলবে। উল্টো বেশি ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। পড়তে হবে স্বাস্থ্যজনিত হুমকিতে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের যানবাহন এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন নগরীতে বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারি নিয়মে রাজধানীতে চলাচলকারী সব বাসই লোকাল বাস। কিন্তু সিটিং সার্ভিস নাম দিয়ে চলে। আসলে সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া মানে না। যাত্রী যেখানেই নামুক, সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায় করে, যা ন্যায্য ভাড়ার দুই থেকে তিনগুণ। সেখানে করোনার নামে এখন আবার ভাড়া বাড়ছে। এতে যাত্রীদের সরাসরি পকেট কাটা হবে। তাদের আরও বেশি হয়রানি হতে হবে। বাসের লোক ঠিকই বেশি যাত্রী তুলবে। উল্টো ভাড়াও নেবে বেশি। এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন খোলা কাগজকে বলেন, একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করে সরকার। যা ভালো মনে করে সেটাই করে। বিরোধী দল যারা থাকে, তারা রাষ্ট্রের পরিচালকদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বরাতে জানানো হয়, করোনার অজুহাতে গণপরিবহনে এক লাফে ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো গণবিরোধী। এখন করোনা মহামারি চলছে। এ সংকটকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অজুহাতে নিদারুণ আর্থিক সংকটে পতিত দেশের অসহায় জনগণের ওপর জোর করে একচেটিয়াভাবে ভাড়া চাপিয়ে দেওয়া হলো। এটি অযৌক্তিক। আমরা মনে করি, গণপরিবহন হবে যাত্রীবান্ধব। তবে অতীতে সংশ্লিষ্টরা বারবার বিশ^াস ভঙ্গ করেছেন। এ দুর্যোগকালে তাদের কাছে মানবিক আচরণই প্রত্যাশিত।