দিশেহারা কৃষককে অভয় দিন

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

দিশেহারা কৃষককে অভয় দিন

সম্পাদকীয় ৬:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

print
দিশেহারা কৃষককে অভয় দিন

কৃষককুলই এ বঙ্গে অর্থনীতি ও জীবনপ্রবাহের মূল উৎস। যে কৃষক চালু রাখে একটি দেশের জীবনযাপন প্রণালী, সেই কৃষক বরাবরই অবহেলিত, অনাহূত হিসেবেই থেকে গেছে। কৃষক ও কৃষির যোগ্য মূল্যায়ন না থাকায় শিক্ষিত শ্রেণিরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে দেশে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা।

বর্তমান সময়টা কৃষকের জন্য কঠিন অধ্যায়। প্রথমে করোনাভাইরাসের হানা, তারপর এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরপর দফায় দফায় কালবৈশাখী। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। এসব ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। ধান, পাট, ভুট্টা, শাকসবজি ও গ্রীষ্মকালীন তরি-তরকারিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হচ্ছে অধিকাংশ কৃষকের। ঝড়ে কৃষকের ফসল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কালবৈশাখীর ঝড়ে দেয়ালচাপা পড়ে, গাছের নিচে চাপা পড়ে ও বজ্রপাতে অনেক স্থানে বেশ কয়েকজন কৃষক মারাও গেছেন।

পাঁচদিন বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের এ পূর্বাভাস সারা দেশের কৃষককে আরও ভাবিয়ে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, কালবৈশাখীতে আরও বড় ক্ষতি হবে।

এর আগে করোনার কারণে ৫০ টাকা লিটারের দুধ ১০ টাকা, ৩৫ টাকার মুরগির বাচ্চা ১ টাকা, ১৪০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুনের কেজি ২ টাকা বিক্রি করেছেন কৃষকরা। এছাড়া অন্যান্য তরি-তরকারি জমিতে পচেছে। বাঙ্গি জমিতে ফেটেছে, খেতে গড়াগড়ি খেয়েছে তরমুজ। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আম্পানের তা-ব এসেছে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২৬ মে রাতে জয়পুরহাটে কালবৈশাখীর আঘাতে প্রায় ৪০ গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। দেয়ালচাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা গেছেন। মুরগির শেড ভেঙে প্রায় ৪০ হাজার মুরগি মারা গেছে। প্রায় দুই হাজার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গেছে। শত শত গাছ ও বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি উপড়ে গেছে। জেলার বোরো ধান, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর আগে কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও পাবনায় কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ধান মাঠে ঝরে পড়েছে। আম ও লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাটের ডগা ভেঙে অনেক পাটখেত নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ে অনেক কৃষক ও খামারি তাদের পুঁজি হারিয়েছেন। সরকার তাদের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তা এখনই তাদের হাতে পৌঁছানো দরকার। টাকাটা হাতে পেলে তারা এখনই আবার উৎপাদন শুরু করতে পারবেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো সময়ের দাবি। শুধু প্রণোদনা ঘোষণা নয়, সেটার সফল বাস্তবায়নও প্রয়োজন। এ মুহূর্তে কৃষকের পাশে না দাঁড়ালে দিতে হতে পারে বড় মাশুল।