করোনা : সতর্কতার বিকল্প নেই

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা : সতর্কতার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয় ১:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

print
করোনা : সতর্কতার বিকল্প নেই

সাধারণ ছুটি বহাল রাখা এবং না রাখার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক বাক্য ব্যয় হয়েছে। নানাজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানাভাবে দেখিয়েছেন এর ভালোমন্দ। অবশেষে করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়িয়ে আগামী ৩১ মে থেকে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওই দিন থেকে সীমিত পরিসরে বাসও চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোঁয়াচে রোগ কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ আটকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের অফিস-আদালত। গণপরিবহনসহ সব ধরনের চলাচলেও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ঘরবন্দি থাকার এই সময়ে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিলের পর যখন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে বেশি; তখন ঈদ কাটিয়ে অফিস ও গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে।

৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে বলে গত বুধবার জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে অফিস চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন দেওয়া এ সংক্রান্ত ফাইল আমরা হাতে পেয়েছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ছুটি বাড়বে না। অর্থনৈতিক কর্মকা- সীমিত আকারে চালু রাখা হবে। পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে চলবে। বয়স্ক, অসুস্থ ও সন্তান সম্ভবাদের এ সময় অফিসে আসা যাবে না।

৩০ মে’র পর আর ছুটি না বাড়ায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির মেয়াদ আপাতত শেষ হচ্ছে। ছোঁয়াচে এই রোগের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে সবাইকে ঘরে রাখতে গণপরিবহন বন্ধ করে গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সাধারণ ছুটি; অনেকটা অন্য দেশগুলোর জারি করা ‘লকডাউন’র মতো। পরিস্থিতির উন্নতি দেখে বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফেরানোর পথে হাঁটছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, সতর্কতায় এই ঢিল রোগ পুনরায় ব্যাপক আকারে ছড়ানোর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশে এপ্রিলে পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার পর মে মাসে ঈদের আগে আরও কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়; তারপর কোভিড-১৯ সংক্রমণ হার সবচেয়ে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকে আরও কিছু দিন কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করলেও অর্থনীতিবিদদের অনেকে আবার স্থবির অর্থনীতি চালু করতে সীমিত আকারে সব কিছু খোলার পক্ষে মত জানিয়ে আসছিলেন। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ এর আগে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে আলোচনা করে লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। ঈদের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর ইঙ্গিতই ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘ঝড়-ঝঞ্ছা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকাবেলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ সময়টা এখন কঠিন। সবাই যাতে নিজে সুরক্ষিত থাকেন, আশপাশের মানুষকেও ভালো রাখেন নিজ দায়িত্বে এমন সতর্কতা পালন করে যেতে হবে।