কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নজর দিন

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নজর দিন

সম্পাদকীয় ৮:২৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

print
কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নজর দিন

শিক্ষার বুনিয়াদ রচিত হয় প্রাইমারি স্তর থেকে। কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পায় পড়ালেখার প্রথম দীক্ষা। এরপর ধীরে ধীরে তারা নিজেকে পরিণত করে তোলে। কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কিন্ডারগার্টেন স্কুল-কলেজও করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

শঙ্কায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শিক্ষকরা। বাড়ি ভাড়া, শিক্ষকসহ কর্মচারীদের বেতন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান মালিকরা। ছুটি আরও দীর্ঘ হলে স্কুল টিকবে কিনা, সেটি নিয়েই শঙ্কা কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিন্ডারগার্টেনের আয়ের উৎস শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি। শিক্ষকদেরও আয়ের অন্যতম উৎস টিউশনি। সবই করোনায় বন্ধ। ঈদের ছুটির পর স্কুল চালু করা সম্ভব না হলে এসব পরিবারের আয়-রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এসব বিষয় উঠে আসে গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

রাজধানী উত্তর বাড্ডার ডাইনামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল খায়রুল বাশার বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের আয়-রোজগারও। দুই মাস ধরে সবার বেতন-ভাতা বন্ধ। কিন্তু প্রতি মাসে একলাখ টাকা বাড়ি ভাড়া। সেটার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা যাচ্ছে না। বাড়ি ভাড়াও পরিশোধ করতে পারছি না।

স্কুলটিতে নিম্নআয়ের মানুষের সন্তানরা লেখাপড়া করে। বেতন অনেক কম। শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে। পরীক্ষার ফি নিয়ে সেসব ঘাটতি পূরণ করা হত। এর মধ্যে দুই মাস বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি হয়ে গেল। শিক্ষকদের বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে তাদের চরম হতাশায় দিন কাটছে। এ অবস্থায় সরকারের একান্ত সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

রতœগর্ভা ফরিদা জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। আমরা বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য।

লকডাউনের কারণে প্রতিষ্ঠানের আয়-রোজগারও বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। শহরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগও নেই। সরকারের উচিত আমাদের সহায়তা করা। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হাসান বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস শুরু করেছি। এখন মোবাইল, রেডিও ও অনলাইনএ তিনটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেন সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছতে পারি, সে বিষয়ে কাজ করছি। সরকারি প্রণোদনা না পেলে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো যে বিপাকে পড়বে বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা প্রত্যাশা করব, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ভাববেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের পাশে সময়মত দাঁড়াতে না পারলে এর জন্য দিতে হতে পারে বড় মাশুল।