মশার ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম অপ্রত্যাশিত

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মশার ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম অপ্রত্যাশিত

সম্পাদকীয় ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

print
মশার ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম অপ্রত্যাশিত

হাঁটি হাঁটি পা করে এগিয়ে আসছে ডেঙ্গুর সিজন। চলমান বৈশি^ক ভাইরাস করোনার কারণে আড়াল হয়ে গেছে দেশের অনেক বিষয়। এর মধ্যে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি অন্যতম। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মশার ওষুধ কেনার অনিয়ম আর দুর্নীতি পিছু ছাড়ছে না। এই দুর্নীতির কারণে বারবার ডিএসসিসিতে মশার উপদ্রব বাড়ছে। গত বছর ওষুধের গুণগত মান নিয়ে তুঘলকি কা- ঘটলেও এবার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবারও মশার ওষুধ নিয়ে মারাত্মক অনিয়ম করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সিন্ডিকেট মূলত নতুন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে বেকায়দায় ফেলতেই নিম্নমানের ওষুধ কেনার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় খোলা কাগজে।

জানা যায়, টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় সর্বোচ্চ দরদাতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার লিটার মশার ওষুধ নিয়েছে ডিএসসিসি। একই প্রক্রিয়ায় আরও ৪০ হাজার লিটার ওষুধ সরবরাহ করতে যাচ্ছে। যেখানে সর্বনিম্ন দরদাতা ওষুধ সরবরাহ করার কথা সেখানে উল্টো সর্বোচ্চ দরদাতা মশার ওষুধ সরবরাহ করছে। সম্প্রতি মশার ওষুধ বিষয়ে একটি ফাইল অনুমোদনের জন্য সংস্থার বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের কাছে পাঠানো হয়। তিনি ফাইলের অনুমোদন দেননি। বরং মেয়র বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া তারা কীভাবে ওষুধ ফরমুলেশন করেছেন সেটা জানা নেই। ডিএসসিসি সূত্র জানায়, গত বছর ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাবের পর বিদেশ থেকে সরাসরি মশার ওষুধ আমদানির জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে অনুমতি দেয় সরকার।

উড়ন্ত মশা নিধন করতে ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আমদানি করে ডিএসসিসি। এই ওষুধের সঙ্গে ৯৫ শতাংশ ডিজেল মিশ্রিত করে নগরীতে ছিটাতে হয়। এজন্য ডিজেল এবং ওষুধের ফরমুলেশন সঠিক হতে হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফরমুলেশনের কাজটি করায় ডিএসসিসি। এরই ধারাবাহিকতায় ওষুধ ও ডিজেলের সঠিক ফরমুলেশন করে দিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইটিং ওষুধের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ডিএসসিসির ক্রয় ও ভা-ার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এসব ওষুধ খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। সঠিকভাবে ফরমুলেশন না হওয়ায় ৪০ হাজার লিটার ওষুধ এখনও সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

খামারবাড়িতে পরীক্ষায় ফরমুলেশনের মাত্রায় সমস্যা পাওয়ার বিষয়টি মেসার্স মার্শাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিনও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘একবার আমার ওষুধ খামারবাড়ির কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হলে তাদের ল্যাবের পরীক্ষায় ৫ শতাংশ এর কম আসে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব ল্যাব টেস্ট কখনো সেটা ৫.১; ৫.৪ ও ৪.৯ পর্যন্ত আসে। এমন প্রায় ১৭টি টেস্টের রেজাল্ট আমাদের কাছে আছে। পরে আমাদের কেমিস্টও খামার বাড়ির কেমিস্টরা বসে রেজাল্ট ঠিক করেছেন।’ মানুষের জীবন-মৃত্যু যেখানে জড়িত সেসব ক্ষেত্রে এমন দুর্নীতি কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। আমরা প্রত্যাশা করব, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবেন।