ঈদযাত্রার হিড়িক : জনস্বাস্থ্য যেন হুমকিতে না পড়ে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঈদযাত্রার হিড়িক : জনস্বাস্থ্য যেন হুমকিতে না পড়ে

সম্পাদকীয় ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
ঈদযাত্রার হিড়িক : জনস্বাস্থ্য যেন হুমকিতে না পড়ে

ঈদ এলেই শেকড়মুখী হয় মানুষ। বিশেষ করে বাড়ি ছেড়ে চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কাজে যারা দেশের বড় শহরগুলোতে অবস্থান করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস অতীত রেকর্ডকে পাল্টে দিয়েছে এবার। লকডাউনের মেয়াদ তথা সাধারণ ছুটি আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ঈদুর ফিতরের ছুটি সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাই এই দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে থাকা মানুষের মধ্যে। গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নানা উপায়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ। এ বিষয়ে খোলা কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। গত শনিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার গিয়ে দেখা যায়, যেসব ট্রাক রাতে রাজধানীতে সবজি ও মাছ নিয়ে আসে, সেই ফিরতি ট্রাকে গাদাগাদি করে গ্রামে যাচ্ছে মানুষ।

রাজধানীর গাবতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আরিচা ঘাটে যাচ্ছে কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, মেহেরপুরসহ খুলনা অঞ্চলের মানুষ। তবিবুল নামের এক তরুণ ৬০০ টাকা ভাড়ায় পিকআপভ্যানে করে ঝিনাইদহে বাড়ি ফিরছেন। রিপন মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, তিনি ৮০০ টাকা ভাড়ায় মেহেরপুরের গাংনী যাচ্ছেন। একইভাবে অনেকে গুলিস্তান থেকে মাওয়া ঘাটে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। ভাড়া গন্তব্য ভেদে ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্তের যাত্রীরা রওয়ানা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও রংপুর অঞ্চলের মানুষ গাড়ির জন্য ভিড় করে আছে।

সায়েদাবাদে দেখা গেছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লার যাত্রীর ভিড়। সেখানে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক ও মোটরসাইকেল চুক্তিতে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, অনেকেই সেহরি খেয়েই রওনা হয়ে গেছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বারেও ঘরমুখো মানুষের ঢল। লঞ্চ, স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে করেই লোকজন পারাপার হচ্ছে। তাই ফেরিতে গাড়ি দেখাই যাচ্ছে না। লোকে লোকারণ্য। শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই। গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছে। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। লৌহজং উপজেলার এই ঘাট দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকামুখী মানুষের প্রবল স্রোত ছিল। শুক্রবার থেকে স্রোত এখন চলছে উল্টোদিকে।

মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, ঢাকা থেকে যারা শনিবার ফিরছে, এদের মধ্যে গার্মেন্টকর্মী তেমন দেখা যায়নি। এদের বেশিরভাগই অন্যান্য পর্যায়ের লোকজন মনে হচ্ছে। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বা অন্যান্য কাজের জন্য গিয়েছিলেন। আবার লকডাউন হয়ে যাওয়ায় খোলার মতো পরিবেশ না থাকায় এবং সাধারণ ছুটি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। শিমুলিয়া ঘাটে ভোরে দেখা যায়Ñ দক্ষিণবঙ্গমুখী বহু মানুষ ফেরির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফেরিঘাটে আসা মাত্রই লোকজন ওঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে কোনো রকমে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে, এরপর গাদাগাদি করেই পার হচ্ছে পদ্মা। সরকারিভাবে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ গাড়ি চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষও নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা না ভেবে ঘরমুখী হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে তৎপর হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।