শ্রমিকদের দাবি আমলে নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শ্রমিকদের দাবি আমলে নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

সম্পাদকীয় ৭:২৪ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০

print
শ্রমিকদের দাবি আমলে নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসে ধুঁকছে তখন বাংলাদেশে এক শ্রেণির অবিবেচকের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের প্রায়ই বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে চরমভাবে।

 

একশ্রেণির মুনাফালোভী পোশাক শিল্প উদ্যোক্তার খামখেয়ালীপূর্ণ আচরণের কারণে শ্রমিকরা পথে নামতে বাধ্য হচ্ছে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কিছুদিন কম থাকার পর ফের বেড়েছে। এতে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলাটিতে বসবাসরত গার্মেন্ট শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে গাজীপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি সত্ত্বেও মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাসের দাবিতে একের পর এক গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় শ্রমিকদের শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই। উল্টো পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন গাজীপুরে কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বিশেষ করে, শ্রমিকদের সংস্পর্শে আসায় মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে গাজীপুর মেট্রো ও শিল্প পুলিশ। গত ১৪ মে গাজীপুর মেট্রো বাসন থানার ১৫ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। এ ছাড়া শিল্প পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সংক্রমণ রোধে একমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া পরিহার করতে হবে। ইতোমধ্যে বাসন থানার ১৫ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

৪ মে আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও জানানো হয়েছে ১৪ মে। এর আগেও গাছা থানার বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছিল। তবে তারা সুস্থ হওয়ার পর মেট্রো পুলিশে আর কেউ আক্রান্ত ছিল না। হঠাৎ করে বাসন থানা পুলিশ আক্রান্তের খবর দুশ্চিন্তার। গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ বোনাস ও বেতন নিয়ে বিজিএমইএ’র সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে।

অথচ শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাগুলোতে বহিরাগতরা মদদ দিচ্ছে। এক কারখানার শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় বহিরাগতরা বিভিন্ন কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সেসব কারখানার শ্রমিকদের বের করা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এমন ৩০ জন দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশ সুপার ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পিপিই পরে একজন শিল্প পুলিশ কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে, ভাংচুর শুরু হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব। শিল্প পুলিশকে শ্রমিকদের খুব কাছাকাছি যেতে হয়। তাদের বোঝাতে হয়। যতই পিপিই পরিধান করুক না কেন, সংক্রমণ ঝুঁকি থেকেই যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর শিল্প পুলিশ। এ সময়ে শ্রমিক আন্দোলন সংঘটনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যেমন অনুচিত তেমনি তৃতীয় পক্ষ যেন জল ঘোলা করতে না পারে সেজন্য তাদের শনাক্ত করে আইনে সোপর্দ করাও জরুরি।