মশা নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত ব্যবস্থা নিন

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মশা নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয় ৫:২৫ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

print
মশা নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত ব্যবস্থা নিন

গত বছর ডেঙ্গুজ¦রে মারা গেছেন রেকর্ডসংখ্যক মানুষ। দুই সিটি করপোরেশন এতে সমালোচিত হলেও মেয়রদ্বয় পারেননি নাগরিকদের এতটুকু স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করতে। এডিস মশার প্রজনন মৌসুম এসেছে আবার। এবার কী হবে তা নিয়ে আতঙ্কিত নগরবাসী। করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যস্ত সময় পার করছে। পাশাপাশি বর্ষা শুরুর আগেই রাজধানীতে মশার উপদ্রব বাড়ছে। মশার যন্ত্রণায় রাতে মশারি ছাড়া ঘুমানো মুশকিল। একদিকে করোনার ভয় অন্যদিকে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। এদিকে করোনার কারণে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ। এর বাইরে রুটিনমাফিক কিছু কাজ হলেও ডেঙ্গুরোধে তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন নগরবাসী। তবে উভয় সিটির কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ডেঙ্গু রোধে কাজ চলছে।

খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরীর নালা, জলাশয়, ড্রেনেজের পানি নিষ্কাশন দ্রুত না হওয়ায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতিতে এখন মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের সূত্র অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডিএসসিসি মশার ওষুধ কেনার জন্য ২৬ কোটি টাকা ও ডিএনসিসি ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। তবে গত বছর দক্ষিণ সিটি প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকার মশার ওষুধ কেনে। চলতি বছর ২৮ কোটি টাকার ওষুধ কেনার কথা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি গত বছর ১৮ কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে। তবে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে এ খাতে আরও কয়েক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে এ বছর বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়েছে দুই সিটি। তবে সংস্থা দুটি যে উদ্দেশে বাজেট বাড়ানো হয়েছিল তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কয়েক মাস আগেও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিধনে বাড়িবাড়ি গিয়ে পরিচ্ছন্ন অভিযান চালিয়েছিল। বর্তমানে সেই অভিযান বন্ধ রয়েছে। ফলে কিউলেক্স মশার পাশাপাশি এডিস মশার উপদ্রবও বাড়ছে। কচুরিপানা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ কেনায় প্রতি বছরে দুই সিটি করপোরেশন ৫০-৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। কিন্তু দুটি সংস্থা নামকাওয়াস্তে কিছু কাজ করে বাকি টাকা কৌশলে লুটপাট করছে। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোমিনুর রহমান মামুন এ বিষয়ে বলেন, মশা নিধনে কার্যক্রম বাড়াতে আউট সোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া মশার প্রজননস্থল সার্ভে করে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার মশার ওষুধসহ সব কিছুই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৈশি^ক মহামারি করোনার কারণে সবাই এখন একমুখী চিকিৎসায় ব্যস্ত নেই। মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করেছি। যদিও এটি রুটিন কাজ। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ বলেন, বর্ষা আসার আগেই মশার উপদ্রব বাড়ছে। দ্রুত মশার উপদ্রব কমাতে ওষুধ ছিটানো জোরদার করা হয়েছে। গত ১১ মে থেকে বাসা-বাড়িতে মশার লার্ভার খোঁজে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ টিম নিয়মিত কাজ কাজ করছে। নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এবার ঢাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই সিটির যে প্রস্তুতি তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। একদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ব্যস্ত। এর সঙ্গে যদি ডেঙ্গু উপদ্রবও যুক্ত হয় সেটা হবে গোদের ওপর বিফফোঁড়াতুল্য। আমরা প্রত্যাশা করব, সংশ্লিষ্টরা দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেবেন।