চিকিৎসার পরিসর বৃদ্ধি সময়ের দাবি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চিকিৎসার পরিসর বৃদ্ধি সময়ের দাবি

সম্পাদকীয় ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

print
চিকিৎসার পরিসর বৃদ্ধি সময়ের দাবি

দেশের অনেক হাসপাতালেই নেই প্রয়োজনীয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ও ভেন্টিলেটর, সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত; অন্যদিকে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিপিই সংকটও যেন পুরনো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশেরই প্রায় একই চিত্র। একদিকে বাড়ছে করোনা রোগী, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো যাচ্ছে না চিকিৎসাসেবার পরিমাণ। ঢাকাসহ বিভাগীয় ও বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকলেও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এসব হাসপাতালে নেই করোনা চিকিৎসার জন্য আইসিইউ। এসব বিষয় উঠে আসে গতকাল প্রকাশিত খোলা কাগজের প্রতিবেদনে। বিভাগীয় ও বড় শহরগুলোর বাইরে যেসব জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেসব জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে দুর্দশা-কাহন।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে ৬ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়। পরে ১৬ এপ্রিল ওই হাসপাতালকে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত রোববার পর্যন্ত গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৪৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান জানান, হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিটে একশ’ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। আইসিইউতে শয্যা রয়েছে ১০টি এবং ভেন্টিলেটর আছে ৪টি। হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাতজন। হাসপাতালে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।

বরগুনায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন দুজন। সুস্থ হয়েছেন ২৫ জন। জেলা সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন দুজন। জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে রয়েছেন ৪০৯ জন। হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড নেই। এই হাসপাতালে মোট ৮০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে, যার মধ্যে ৪০টি করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ঝিনাইদহে এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আটজন চিকিৎসকসহ ১৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। জেলার করোনা চিকিৎসা সমন্বয়কারী মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় জেলা শিশু হাসপাতালে ৫০ শয্যা আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই ওয়ার্ডে বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা নিজ নিজ বাড়ির হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

হবিগঞ্জে এ পর্যন্ত জেলায় ৯৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ২১ জন, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের পাঁচজন জন, চুনারুঘাট থানার ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকসহ ১২ জনের ফলোআপ রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে। শনাক্তের শুরু থেকেই চিকিৎসাসেবা নিয়ে জেলার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। নীলফামারীতে আইসোলেশনে থাকাদের চিকিৎসায় ওষুধসহ ঘাটতি নেই সরঞ্জামের, জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা চিকিৎসার পরিসর বৃদ্ধি করবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।