প্রবাস ফেরতদের বিষয়ে ভাবুন

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রবাস ফেরতদের বিষয়ে ভাবুন

সম্পাদকীয় ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

print
প্রবাস ফেরতদের বিষয়ে ভাবুন

 

প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে মূল্যবান রেমিটেন্স প্রেরণ করতেন। বর্তমানে তাদের নিজের অবস্থাই সংকটাপন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি লণ্ডভণ্ড। বন্ধ আছে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কর্মকাণ্ড। ফলে ইতোমধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের বাংলাদেশে পাঠানো শুরু হয়েছে। বিমানপথে যোগাযোগ শুরু হলে এ হার আরও বাড়বে। যোগ হবে বৈধ শ্রমিকরাও। সে ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাওনা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়বে। দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে আরব দেশগুলো থেকে প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রায় ৮৫ ভাগ বৈধ। ফেরত আসা প্রবাসীদের সঙ্গে বৈধ শ্রমিকরাও যুক্ত হবেন।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমানের বরাতে গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯-এর কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ট্রাভেল ওপেন করলেই লাখ লাখ অবৈধ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে শুধুু তাই না, যারা বৈধভাবে আছেন কিন্তু সেই নিয়োগদাতা কোম্পানি কোভিড-১৯ এর কারণে দেউলিয়া হয়ে গেছে। ওই প্রতিষ্ঠান প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু করতে পারে। প্রবাসে বাংলাদেশিরা এই করোনাকালে শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও তাদের কাছে খাবার পর্যন্ত নেই। করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন। বৈধ যে সব প্রবাসী কাজ করছেন তাদের ইন্সুরেন্স, ভবিষ্যৎ তহবিল ইত্যাদি পাওনা রয়েছে। করোনাকালসহ নানা দুর্যোগকালের জন্য তহবিল থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর সময় নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওনা না দিয়ে বিদায় করতে চাইবে। কোনো কোনো দেশের নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত শুরু করেছে, কোনো কোনো দেশের শ্রমিককে সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিমান চলাচল শুরু হলে এসব শ্রমিকের অনেকেই খালি হাতে দেশে ফিরবে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন দেশের ভিন্ন পরিবেশের কারণে এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি পাওনা চাওয়ার মত সাহস পাবেন না। অথচ এসব পাওনা পেলে শ্রমিকরা বিপদের সময়ে আর্থিক কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পাবেন। প্রবাসীদের এসব পাওনা তার কয়েক মাসের আয়ের সমান। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি। কিন্তু পাওনা নির্ভর করছে তার আদায়ের সক্ষমতার ওপর।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেলনির্ভর দেশগুলো। আগে থেকেই তারা কাজকর্মে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। করোনাভাইরাসের কারণে তেলের দাম কমে যাওয়ায় তাদের আয় আরও কমে যাবে। ফলে তারা বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমিয়ে দেবে। এসব প্রবাসীর দেশে ফেরত আসতে হবে। বিদেশের কোম্পানিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে সব ধরনের পাওনা দিতে চাইবে না। এক্ষেত্রে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে দেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোকে প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরেছে। এদের এবং অপেক্ষমাণদের সমস্যা সমাধানে কী করা হবে সরকারকে দ্রুত নিয়ে রাখতে হবে পূর্বপ্রস্তুতি।