পর্যটন, হোটেল-মোটেলকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকুন

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পর্যটন, হোটেল-মোটেলকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকুন

সম্পাদকীয় ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

print
পর্যটন, হোটেল-মোটেলকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকুন

ভ্রমণ যেহেতু একধরনের বিলাস, সেহেতু মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে ভ্রমণে যাবে এটাই বাস্তবিক বিষয়। অন্যদিকে পর্যটনকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার পথ খুলেছে। বর্তমানে পর্যটন শিল্প কঠিন সময় পার করছে, এর ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে কক্সবাজারের প্রায় সব হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। ফলে চাকরি হারিয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কর্মী। তারা এখন ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছে। এতে খবর নেই হোটেল-মোটেল মালিকদের। শ্রমিকদের দিয়ে বিগত দিনে ভালো ব্যবসা করে এলেও দুর্দিনে তাদের খবর কেউ রাখছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অনেকে বন্ধ হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পেলেও তারপর থেকে মালিকপক্ষ তাদের ছুটি দিয়ে খবর রাখেননি।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু রেস্তোরাঁ ও হোটেলে দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ নেই তো টাকাও নেই। ফলে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এসব কর্মীর পরিবার। হোটেল-মোটেল কর্মীদের ‘বেতন কম বকশিসই সম্বল’, আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের আর্থিক অবস্থা বোঝাতে কথাটি প্রচলিত। কাজ করলে অল্প বেতনের সঙ্গে জোটে বকশিস। এতেই চলে তাদের জীবন। গত দুই মাস বেতন পাননি তারা। আবার চলতি মাসের বেতন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না। মালিকরা করোনাভাইরাসের অজুহাতে বেতন দিচ্ছেন না। আবার অনেকে মার্চে বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতন দিয়ে চাকরি থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কর্মীদের পরিবার।

চলতি মৌসুমে কক্সবাজার পর্যটন শহরের আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো গিজগিজ থাকত অতিথিদের পদচারণায়। কিন্তু বর্তমানে সব হোটেল রেস্তোরাঁয় তালা ঝুলছে, অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁ কর্মীদের দেওয়া হয়েছে ছুটি। সব মিলিয়ে জুন পর্যন্ত হোটেল-মোটেল মালিক জোনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এই শিল্পে ক্ষতি হবে প্রায় হাজার কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের ব্যবসায় ভাটা। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত হোটেলগুলোতে ভিড় থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে কক্সবাজার। মার্চ থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়াতে আমরা মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিদায় করি। কক্সবাজারের বিরাম হোটেলের রুটি কারিগর শহিদুল্লাহ সোহেল বলেন, আমাদের দেখার কেউ নেই। এই পর্যটন শহরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে অনেকে অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায়নি।

কক্সবাজার জেলা হোটেল মোটেল শ্রমিকলীগ সভাপতি রুহুল কাদের মানিক বলেন, কক্সবাজারে হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ মিলে প্রায় ৬ শত প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার কর্মী কর্মহীন। মানবেতর জীবনযাপন করছে। নাম করা রেস্তোরাঁর মালিকরাও তাদের শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কক্সবাজারের অনেক হোটেলই শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে লকডাউনের কথা বলে ছুটি দিয়েছে। আর কোনো খোঁজ রাখছে না। এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে থেকে শ্রমিক-কর্মীদের রক্ষা করা জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করব, এ বিষযে সংশ্লিষ্টরা সত্বর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।