বেসরকারি শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বেসরকারি শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান

সম্পাদকীয় ৫:২১ অপরাহ্ণ, মে ০৯, ২০২০

print
বেসরকারি শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান

সরকারি শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও বেসরকারি শিক্ষকদের মোকাবেলা করতে হয় রকমারি সমস্যা। বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে আছেন বেসরকারি শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যে বেতন-ভাতা পান তা দিয়ে হয়ত কোন রকম চলে যাচ্ছে কিন্তু নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক কর্মচারি অর্থসংকট উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় ৯৭ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং স্বীকৃতিবিহীন আরো প্রায় দশ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

হাতে গোনা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারীদের ভালো বেতন-ভাতা দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের বঞ্চিত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রায় ৫ লাখ এবং নন-এমপিও এক লাখের বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকার থেকে বেতন-ভাতার কিছু অংশ পেলেও নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা কিছুই পান না। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র কিছু বেতন পেয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও তাও পান না। টিউশনি-কোচিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিও বন্ধ। এমতাবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের বেতন- ভাতা পরিশোধ করছে না। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক সংকট ও দুরাবস্থায় আছেন। ঈদে বেতন বোনাস পাবেন কিনা এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ঈদের আগেই বেতন ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। নতুন এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৬৩৩ টি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের এমপিও মে মাস থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছ। এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর কাজ করছে। দেশের উচ্চমানের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বেতন পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্টাফদের মার্চের বেতনের ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। জানতে চাইলে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় না হলে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। এ কারণে পুরো বেতন পরিশোধ অসম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনার প্রভাবে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী চরম আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করছেন। শর্ত শিথিল করে হলেও চলতি বাজেট থেকে কমপক্ষে আরও তিন হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। এতে শিক্ষকদের অসন্তোষ কমবে, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন ঘটবে। বেসরকারি শিক্ষকরা চরম আর্থিক দুরবস্থায় আছেন। মানুষ গড়ার কারিগর এই শিক্ষকদের ভাগ্যের উন্নতি না হলে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। শর্ত শিথিল করে হলেও এমপিওভুক্তি এবং সংকটকালীন প্রণোদনার দাবি জানানো হয়েছে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। শিক্ষাকে তুলনা করা হয় জাতির মেরুদ-ের সঙ্গে। শিক্ষকদের সমস্যায় রেখে সুগঠিত মেরুদ- পাওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষকদের দুঃখ লাঘবে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।