প্রণোদনার অর্থ বিতরণ হোক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রণোদনার অর্থ বিতরণ হোক

সম্পাদকীয় ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ০৭, ২০২০

print
প্রণোদনার অর্থ বিতরণ হোক

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার যে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিল, প্রজ্ঞাপনের জটিলতা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব কর্মপন্থা প্রস্তুত না করার কারণে উদ্যোক্তারা টাকা নিতে পারছেন না। উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কথাই বলতে চাচ্ছেন না। পেলেও প্রজ্ঞাপনের জটিলতার অজুহাত দেখাচ্ছেন, ঋণ নেওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকের তরফ থেকে বলা হচ্ছে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে কাগজপত্র জমা পড়ছে, টাকা প্রস্তুত আছে যাচাই-বাচাই করে দেওয়া হবে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে তুলে দাঁড় করাতে সরকার কৃষি, এসএমইসহ শিল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার তিনটি প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। গ্রাহক পর্যায়ে যার সুদ হার নির্ধারণ করা হয়েছে চার থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। কিন্তু প্রজ্ঞাপনের মারপ্যাঁচ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক পর্যায়ের প্রস্তুতির অভাবে এসব প্রণোদনা বিতরণের উদ্যোগই নেওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়Ñ গ্রাহকরা বলছেন, ঋণ নেওয়ার যে সব শর্ত আছে সেসব শর্ত মেনে ঋণের আবেদন করা হলেও ব্যাংকগুলো নানা কারণ দেখিয়ে ঋণ কার্যক্রম শুরু করছে না। শাখা পর্যায়ে এ ব্যাপারে নির্দেশনাই আসেনি বলে জানান কোনো কোনো গ্রাহক। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রজ্ঞাপনের শর্তে জটিলতা আছে, এটা ঠিক হলে ঋণ কার্যক্রম শুরু হবে। উদ্যোক্তারা জানান, তাদের বড় একটি অংশ প্রণোদনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যারা ব্যাংকে যাচ্ছেন টাকার জন্য তারা এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমস্যা সমাধানে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সভাপতিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের কথা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে তারা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেটা তারা দেখুন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি তা আমরা দেখি। তারপর এক সঙ্গে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য, ব্যবসা-বাণিজ্যকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। কোনো জটিলতার কারণে সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হোকÑ এটা আমরা কেউই চাই না। খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করতে পারব বলে আশা করি।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান প্রধান এ বিষয়ে বলেন, প্রণোদনা বিতরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার যে অংশটি পাওয়ার কথা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমরা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছি। উদ্যোক্তার যে আবেদন পাওয়া গেছে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। বড় ঋণের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে আমরা এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অতি সতর্কতা এই সমস্যা তৈরি করছে বলে জানান অন্য একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা। সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও এ ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো। এ জন্য ব্যাংকগুলো নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা দেখছে। অন্যদিকে এসএমই ঋণের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো এবারও কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রণোদনার অর্থ প্রাপ্তি সহজ করতে সংশ্লিষ্টরা ত্বরিত পদক্ষেপ নেবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।