রেমিটেন্সে অশনিসংকেত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রেমিটেন্সে অশনিসংকেত

সম্পাদকীয় ৫:৪১ অপরাহ্ণ, মে ০৪, ২০২০

print
রেমিটেন্সে অশনিসংকেত

একদিকে দেশে ফেরত এসেছেন কয়েক লাখ প্রবাসী, অন্যদিকে প্রবাসে থাকা শ্রমিকরাও কাজ হারাচ্ছেন। তাদের দেশে ফেরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বড় সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারিতে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। ধাক্কাটা আরও প্রবল হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সর্বগ্রাসী এ ধাক্কা সামলাতে না পারলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় তিন ভিত্তি কৃষি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। করোনার ধাক্কা থেকে কৃষিকে মোটামুটি সামাল দিয়ে রপ্তানি আয়কে মূল ধারায় ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও প্রবাসী আয়ে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি দেশ থেকে শ্রমিক ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বেশি প্রবাসী কাজ করা দেশ সৌদি আরব থেকে লোক ফিরিয়ে আনার খবরে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের সংকটের আভাস মিলছে।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কিছু দেশ থেকে মানুষ ইতোমধ্যে ফিরেও এসেছে। যোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে আপাতত বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে প্রবাসী আয়ে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও ফুটে উঠেছে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার মাসেই আগের মাসের চেয়ে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৩৮০ কোটি টাকা কম এসেছে। পরবর্তী মাসগুলোতে এ অবস্থা আরও প্রবল হবে। যদিও চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ ৯ মাসে কিছুটা কমেছে। এ সময়ে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরগুলোর প্রায় কাছাকাছি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের বলে পল্লী অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়; মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এ ভোগের ওপর নির্ভর করে দেশে বড় ধরনের উৎপাদন যজ্ঞ চলে। ফলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে এ রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে ব্যাংকগুলোও বড় ধরনের আমানত হিসাবে পায়। যা ঋণ হিসাবে উৎপাদনে যায়। করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩০ ভাগ। যা একই সঙ্গে পল্লী অঞ্চলে ভোগ কমাবে ও ব্যাংকগুলোর আমানতে আঘাত করবে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ কর্মরত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এসব দেশের মানুষ নিজের কাজ নিজে করতে চাইবে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা হয়তো দ্রুত স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সমস্যা হবে মধ্যপ্রাচ্যে। আর মধ্যপ্রাচ্যেই বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকের ৬০ ভাগ কর্মরত আছে।

করোনার প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও। ফলে দেশে স্বজনরা খরচ কমানো শুরু করেছেন। দেশে প্রবাসীদের পরিবারগুলো ৮৫ ভাগ রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল। ১৫ জন নির্ভর করে কৃষির ওপর। করোনা দুর্যোগ দীর্ঘায়িত হলে পরিবারকে আরও খরচ কমাতে হবে। সব মিলিয়ে কঠিন সময় মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সজাগ থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।