পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান

সম্পাদকীয় ৫:০০ অপরাহ্ণ, মে ০৩, ২০২০

print
পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান

পরিবহন শ্রমিকরাই কারোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনÑ এমন মন্তব্য করলেও অত্যুক্তি হবে না। এদের অধিকাংশেরই বিকল্প কোনো আয়ের উৎস নেই। গাড়ির চাকা ঘুরলেই ঘোরে জীবনের চাকা, নইলে নেমে আসে স্থবিরতা। পরিবহন খাতের নিবন্ধিত প্রায় ৪৪ লাখ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। নিবন্ধিত পরিবহন থেকে প্রায় ৩৭ দিনে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মোট পরিবহন ব্যবস্থার ২-৩ শতাংশ চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু পণ্যবাহী যান, অল্প কিছু ব্যক্তিগত গাড়ির কিছু মোটরসাইকেল। এই সেক্টরে কর্মরত প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে পরিবহন চলাচল বন্ধ।

এখন পর্যন্ত পরিবহন সেক্টর থেকে কোনো মালিক, পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা শ্রমিকদের ভাগ্যে জোটেনি। তবে ২/১ জন মালিক ব্যক্তিগতভাবে কিছু সহযোগিতা করেছেন। পরিবহন শ্রমিকদের গায়ের ঘামানো পয়সা প্রতিদিন চাঁদা হিসেবে সারা দেশ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের (সংগঠনের) ফান্ডে জমা হচ্ছে।

করোনা মহামারির সময় কোনো শ্রমিক একটি টাকাও অনুদান কিংবা সাহায্য পায়নি। শ্রমিকদের দেওয়া চাঁদার টাকা কোথায়! খোদ শ্রমিকদের মধ্যেই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের গায়ের ঘামের টাকা দিয়ে নেতারা সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনেকেই এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। বিপদের সময় শ্রমিক নেতার সাধারণ শ্রমিকদের কোনো খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না।

শুধু শ্রমিক নন, সাধারণ পরিবহন মালিকরাও আয় বঞ্চিত হয়ে কঠিন সময় পার করছেন। কারণ, তাদের ব্যাংকের বা গাড়ি সরবরাহকারী ডিলার কোম্পানিকে মাস শেষে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য প্রণোদনার কথা ঘোষণা করলেও পরিবহন খাতের জন্য আলাদা কিছু উল্লেখ করেনি। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বেকার হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের এখন করুণ অবস্থা। আর ছোটখাটো মালিকরাও রয়েছে বিপাকে।

মিরপুর-মহাখালী রুটের এক টেম্পু চালক বলেন, করোনার ভয়ে বেশিরভাগ চালক-শ্রমিক গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। তার মতো যারা যেতে পারেননি তাদের কষ্টের শেষ নেই। দুই কক্ষের একটি বাসা ১০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকি। ছোট দুই ভাই থাকেন। স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন। দুই মেয়ে স্কুলে যায়। খুব একটা খারাপ ছিল না সংসার। কিন্তু গত কদিনে বাজে অবস্থা। দুশ্চিন্তায় আছি কবে পরিবহন চালু হবে।

সারা দেশে বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো থেকে প্রতিদিন ৭০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তা থেকে ৪০ টাকা পায় মালিক সমিতি। আর ৩০ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের ভাগে। মালিক সমিতিগুলো নানাভাবে বিভক্ত। তবে মূল সংগঠনটির নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং পরিবহন নেতা খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ। শ্রমিক সংগঠনগুলোর এক নেতৃত্বে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই নেতাসহ সংশ্লিষ্টরা শ্রমিক দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।