ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসুক

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসুক

সম্পাদকীয় ৫:০৩ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০২০

print
ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসুক

করোনার প্রকোপে স্তব্ধ দেশ। সাধারণ ছুটি ও লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। ফলে প্রবল সংকটে রয়েছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের লোকজন। প্রধানমন্ত্রী ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। নানা স্কিমে সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ত্রাণের পরিমাণ যথেষ্ট নয় বলে জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ, সরকারের তরফ থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা তৃণমূলে প্রতিফলন নেই। চাহিদার তুলনায় সরবারহের পরিমাণও কম। ত্রাণের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়েছে। শুরু থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সরকারি এসব চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে। ত্রাণের আওতাভুক্ত কেউ বাদ পড়বে না। ত্রাণ চুরিতে জড়িত থাকায় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করেছে সরকার। সুষ্ঠুভাবে বণ্টনে প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মহীন দরিদ্র মানুষদের ত্রাণের আওতায় আনার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ সমন্বয় ও দুর্বল বণ্টন ব্যবস্থাপনার কারণে সবার কাছে এটা পৌঁছাচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খাবারের জন্য মানুষ রাস্তায় নামবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ত্রাণ বিতরণ করছেন বলে জানা গেছে। যেসব ওয়ার্ডে এসব সামগ্রী পৌঁছেছে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় ভোটার না হলে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না, অনেকে আবার একাধিকবার পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ঝুঁকি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে দুদিন জেলাভিত্তিক ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ সব ক’টি ওয়ার্ডে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় সামান্য।

দিন যত গড়াচ্ছে ততই জোরাল হচ্ছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ত্রাণের দাবিতে গণপরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন। তাদের দাবি ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে এক সপ্তাহ আগে ভোটার আইডি কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ মেলেনি। এর আগে গত সপ্তাহে সাভারে পরিবহন শ্রমিকরা ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদেরও অভিযোগ ছিল, ত্রাণ সুবিধা জুটছে না। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনা হলে সংকটে মোকাবেলা সহজ হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, সংশ্লিষ্টরা সব ভেদাভেদ ভুলে এই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।