লবণ চাষিদের পাশে দাঁড়ান

ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

লবণ চাষিদের পাশে দাঁড়ান

সম্পাদকীয় ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

print
লবণ চাষিদের পাশে দাঁড়ান

লবণ ছাড়া একদিনও চলে না। রান্নাবান্নায় এ উপাদান অত্যাবশ্যকীয়। শিল্পকারখানায়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লবণের ব্যবহার রয়েছে। নানা কারণেই এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। করোনা পরিস্থিতির কারণে লবণ শিল্পখাতে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। অনেকটা বেকার সময় কাটাচ্ছেন লবণ চাষিরা। উৎপাদিত লবণের দামও নেই। খোলা মাঠে পড়ে আছে রক্ত ঘামে মিশ্রিত ‘সাদা সোনা’ নামের দেশীয় সম্পদ। আর দালাল ফঁড়িয়াদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে প্রান্তিক চাষিরা। নামমাত্র দামে লবণ বিক্রি করেও মাসের পর মাস ঘোরাচ্ছে টাকা নিয়ে। সব মিলিয়ে বর্তমান লবণ শিল্প চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। গত বৃহস্পতিবার খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে সমগ্র কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ উৎপাদন হয়। যা দিয়ে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদনের ভরা মৌসুম।

গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার লবণ চাষি ১০ দশমিক ৩৫ লক্ষ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছে। যা গত মৌসুমের এ সময়ের চেয়ে দশমিক ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন বেশি। আবহাওয়ার এ অবস্থা বিরাজ করলে এবারও বাম্পার ফলন হবে। বিশ্বজুড়ে আঘাত করা করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের মতো লবণ শিল্পখাতও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সারা দেশ লকডাউনের কারণে সরকার তথা স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক লবণ চাষিদের ঘরে অবস্থান করে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি সময় দিতে হচ্ছে। কিন্তু মাঠে লবণ রেখে তা সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার ফলে যানবাহন না চলায় বিভিন্ন গদি/লবণ ক্রয়-বিক্রয় স্পটে ক্রেতা না আসতে পারায় বিক্রিও সম্ভব হচ্ছে না, উৎপাদিত পণ্য মাঠেই পড়ে আছে। ফলে মাঠে প্রায় ৮ লক্ষ মেট্রিক টন অবিক্রীত অবস্থায় অরক্ষিতভাবে পড়ে আছে।

যে কোনো সময়ে বৃষ্টিপাত বা ঘূর্ণিঝড় হলে মজুদ লবণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই শঙ্কার ফলে চাষিরা ক্রেতা পেলেই অনেক ক্ষতিতে অর্থাৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে কমে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয় (বিসিক) কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ-১ এর আওতায় ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রণোদনা হিসেবে ক্ষুদ্র লবণ চাষিদের বিশাল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটেল হিসেবে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা সংরক্ষণ করতে পারেন। যদি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয় তাহলে এই ক্ষতির কারণে চাষিরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন। আর তাহলে লবণ হয়ে যাবে আমদানি-নির্ভর। তখন এই পণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

চাষিদের উৎপাদিত লবণে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ থেকে প্রণোদনা প্রদান করে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা সময়ের দাবি। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু অংশসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার চাষযোগ্য লবণ জমির পরিমাণ ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। লবণ চাষিরা যাতে নির্বিঘ্নে  থাকতে পারে, সংশ্লিষ্টদের সেই ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যথায়, আগামীতে লবণ নিয়ে কারসাজি তথা বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।